ঢাকা: এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের ঘটনায় শুরুতে খাতা মূল্যায়ন করা শিক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে এসব পরীক্ষকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, ‘পুনর্মূল্যায়নের পর যেসব খাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সেগুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোন পরীক্ষক খাতা দেখেছেন, সেটিও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের দুর্বলতা যাচাই করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। যারা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।’ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এবার প্রথমবারের মতো শুধু ট্যাবুলেশন শিটের নম্বর যোগ নয়, পুরো উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগে খাতা পুনর্মূল্যায়নের সিস্টেমটা ছিল না, শুধু ট্যাবুলেশন শিট অর্থাৎ ওপরে যে মার্ক যোগ হয়, সেটাকেই শুধু যোগ করা হতো। আমার ২০০১ সালের অভিজ্ঞতা যে, এই মার্ক যোগ করার পরে দেখা যেত যে ভেতরে যদি খাতা পাল্টিয়ে দেয়া হয় বা অন্য কোনো কিছু করা হয়, তখন এই বিষয়ে কেউ জানত না।’ তিনি বলেন, ‘এ অভিজ্ঞতা থেকে এবার আইনের মধ্যে খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। পুরো খাতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকায় মূল্যায়নের ত্রুটিও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।’ এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের পর নতুন করে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে। একই সঙ্গে ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড পরিবর্তন এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়টি হলো ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবার দেখুন, বিগত দিনগুলোতে এই ব্যবস্থাটি না থাকার কারণে কত ছাত্রছাত্রী তাদের সঠিক ফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এত বিশাল নম্বর যদি জিপিএ-৫ পেয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের খাতা দেখায় বিগত দিনগুলোতে কী পরিমাণ দুর্বল রীতি ছিল। কী পরিমাণ স্বজনপ্রীতি ছিল এবং কী পরিমাণ ম্যানিপুলেশন ছিল।’ ভুল ফলের কারণে শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এমন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে সঠিক ফল পায়, সে কারণেই পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ তার ভাষায়, ‘এই ব্যবস্থাটি করার পরে আর কেউ আত্মহত্যা করবে না, তাদের খাতায় পুনঃনিরীক্ষণ হবে।’ এদিকে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ অক্টোবর দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষককে নগদ ১ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেয়া হবে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৪৬ জনের বদলি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে যেসব বদলির ফাইল প্রক্রিয়ায় ছিল, সেগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করা সম্ভব নয়। চলমান নিয়োগ ও সংযুক্তির প্রক্রিয়া শেষ করতেও বদলি প্রয়োজন।’ তবে ভবিষ্যতে বদলি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়ম ঠেকাতে অনলাইন বদলি ব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে ত্রুটি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মতো বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য ফল নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য।’























































Discussion about this post