পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ফজরের নামাজ আদায়ের সময় সিজদারত অবস্থায় মারা গেছেন হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ (৩৩) নামের এক তরুণ ইমাম। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় মুসল্লি ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো আজ ভোরেও ফজরের জামাত পরিচালনার জন্য মসজিদে আসেন হাফেজ আতাউল্লাহ। জামাত শুরুর আগে তিনি একা সুন্নত নামাজ আদায় করছিলেন। দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আর না উঠলে মুসল্লিদের সন্দেহ হয়। পরে কাছে গিয়ে দেখা যায়, সিজদারত অবস্থাতেই তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মারা যাওয়া হাফেজ আতাউল্লাহ পার্শ্ববর্তী দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মাওলানা আব্দুস সালামের একমাত্র সন্তান। তিনি পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসা থেকে পড়ালেখা সম্পন্ন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শ্রীরামপুর বাজার জামে মসজিদ কমিটির সদস্যরা জানান, গত প্রায় দেড় বছর ধরে এই মসজিদে নিয়মিত ইমামতি করে আসছিলেন আতাউল্লাহ। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নম্র স্বভাব, বিনয়ী আচরণ ও সুন্দর চারিত্রিক গুণাবলির জন্য তিনি স্থানীয়দের অত্যন্ত প্রিয় পাত্র ছিলেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাফেজ আতাউল্লাহর মামাতো ভাই মহিবুল্লাহ বলেন, “তিনি বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন। ছোট ছোট দুটি অবুঝ সন্তানকে রেখে এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়াটা পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।” এদিকে নামাজে সিজদারত অবস্থায় তরুণ এই ইমামের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় ইমামকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে সকাল থেকেই তাঁর বাড়ি ও মসজিদে শত শত ধর্মপ্রাণ মানুষ ভিড় জমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ জোহরের নামাজের পর শ্রীরামপুর বাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্টিত হয় এবং আসরের নামাজের পর নিজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে।
























































Discussion about this post