দিনাজপুর প্রতিনিধি: হিলি স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ী সংগঠন। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকেরা। দীর্ঘদিন বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় ও বন্দরের শ্রমিকদের ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত হিলি স্থলবন্দরে কয়েক বছর ধরেই আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলছে না। দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতার কারণে বারবার ব্যাহত হচ্ছে বন্দরটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠন। ধর্মঘটের কারণে হিলি বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো আমদানিপণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি। একইভাবে বাংলাদেশ থেকেও ভারতে কোনো পণ্য রপ্তানি হয়নি। হঠাৎ করে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ভারতীয় অংশে ট্রাকে থাকা পচনশীল পণ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় এসব পণ্য আটকে থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বাংলাদেশি আমদানিকারকেরা। বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মন্ডল বলেন, বিভিন্ন স্থলবন্দরের সঙ্গে হিলি বন্দরের বৈষম্য রয়েছে বলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন। এসব কারণে হিলি দিয়ে তাদের রপ্তানি কমে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদে তারা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সদস্যদের জানানো হয়েছে। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক রেজা আহমেদ বিপুল বলেন, আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ভারতীয় অংশে অনেক পচনশীল পণ্য ট্রাকে বোঝাই অবস্থায় রয়েছে। সেগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারলে আমদানিকারকেরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বন্দর বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিক ও ট্রাকচালকেরাও। তারা জানান, প্রতিদিন ট্রাক ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের ওপর নির্ভর করে তাদের আয়। বাণিজ্য বন্ধ থাকায় কাজ না থাকায় আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা। গত শনিবার সন্ধ্যায় ভারতীয় রপ্তানিকারক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মন্ডলের স্বাক্ষর করা চিঠির মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার বিষয়টি বাংলাদেশের বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে জানানো হয়। এদিকে বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলে হিলি শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। হিলি শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিন্স কুমার কুন্ড বলেন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আদায় কমে যাবে। এতে বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও প্রভাবিত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো। তবে নানা জটিলতায় বর্তমানে আমদানির পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে। এর মধ্যে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় বন্দরটির বাণিজ্য আরও বড় সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সমস্যা সমাধান করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।
























































Discussion about this post