স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ মঞ্চে পেনাল্টি নিতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন লিওনেল মেসি। চলতি আসরেও দুটি স্পট কিক কাজে লাগাতে পারেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও এখন তার দখলে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্ব থেকে কি মেসিকে সরিয়ে দেওয়া হবে? এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসি চাইলে আর্জেন্টিনার হয়ে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্বে থাকবেন। তবে সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি মেসির ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, ‘প্রথমত, লিও যদি পেনাল্টি নিতে চায়, তাহলে সে-ই নেবে। আমাদের দলে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় আছে, যারা পেনাল্টি নিতে পারে। কিন্তু সে যদি নিতে চায়, তাহলে সেই নেবে।’ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮টি পেনাল্টি নিয়েছেন মেসি, যার মধ্যে চারটিতেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপেও তার নেওয়া দুটি পেনাল্টিই গোল হয়নি। ২০২২ বিশ্বকাপ থেকে হিসাব করলে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ সাতটি পেনাল্টির মধ্যে চারটি গোল করতে পেরেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। তবে স্কালোনির বিশ্বাস, মেসির অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি অবদান এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। মেসির মাঠে অবস্থান পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ। মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের শেষ দিকে মেসিকে ডান দিকে সরে খেলতে দেখা যায়। স্কালোনি জানান, প্রতিপক্ষের দুর্বলতা কাজে লাগাতে এবং বেশি সুযোগ তৈরি করতেই এমন অবস্থান নিয়েছিলেন মেসি। স্কালোনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই সময়ে সে সাধারণত আরও বেশি মাঝমাঠের দিকে থেকে খেলে। তবে আমাদের পুরো দল, বিশেষ করে তার আশপাশে থাকা খেলোয়াড়রা, তার খেলার ধরন অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নেয়। এটা স্বাভাবিক। ম্যাচের গতির মধ্যেই এমনটা হয়েছে। দল বুঝতে পেরেছিল যে ওই দিক থেকে সে বেশি বিপদ তৈরি করতে পারছে। বিশেষ করে সে যখন বিপরীত দিকে থাকা সতীর্থদের কাছে পাস দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছিল। আমার মনে হয় বিষয়টি তখন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল।’ মিশরের বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রথম গোলের কারিগর ছিলেন মেসি। তার পাস থেকেই গোলটি আসে। পরে নিজেই গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। এবারের বিশ্বকাপে ৪১০ মিনিট খেলে ১৫টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন মেসি। তার নামের পাশে রয়েছে ৮ গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট। পেনাল্টিতে ব্যর্থ হলেও গত দুই বিশ্বকাপে মেসির সামগ্রিক পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। এই সময়ে ৩৬টি গোলের সুযোগ তৈরি করে ১৫ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। জুনে ৩৯ বছরে পা দেওয়া মেসির শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও সন্তুষ্ট স্কালোনি। বয়স বাড়লেও তার পারফরম্যান্সে বড় কোনো পার্থক্য দেখছেন না আর্জেন্টিনা কোচ। স্কালোনি বলেন, ‘লিও এখনো প্রায় আগের মতোই দৌড়ায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা এমন নয় যে সে এখন অনেক বেশি বা অনেক কম দৌড়াচ্ছে। পার্থক্য হলো, এখন সে যা কিছু করে, তা অনেক বেশি কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যারা তাকে ভালোভাবে চেনে না, তাদের কাছে বিষয়টি হয়তো অবাক করার মতো। কারণ তারা ভাবতে পারে ৩৯ বছর বয়সে সে আর এই পর্যায়ে থাকতে পারবে না। আমি অনেকবার বলেছি, যতদিন সে খেলতে চাইবে, ততদিন সে সেরাদের সেরা থাকবে। আমি এটা তার কোচ হিসেবে বলছি না, আমি বিশ্বাস থেকেই বলছি। যতদিন তার খেলার ইচ্ছা থাকবে, ততদিন সে সেরা থাকবে।’ বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শনিবার রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। নকআউট পর্বের আগের দুই ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে আমরা জয়ের যোগ্য ছিলাম, যদিও ম্যাচটি জিততে আমাদের ১২০ মিনিট খেলতে হয়েছে। দল অনেক সুযোগ তৈরি করেছে এবং কিছু বিচ্ছিন্ন ভুল করেছে। মিশরের বিপক্ষে আমার মনে হয়েছে আমরা আরও ভালো খেলেছি। আমরা আরও বেশি সুযোগ তৈরি করেছি এবং আবারও কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ভুল হয়েছে। আমাদের ফুটবল ও সুযোগ তৈরির দিক থেকে আমি মনে করি দল ভালো অবস্থায় আছে।’ এদিকে, মিশরের কোচ হোসাম হাসান আর্জেন্টিনার পক্ষে রেফারিংয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন স্কালোনি।তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আর্জেন্টিনাকে নিয়ে এ ধরনের কথা অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে। ১৯৮৬ সালে (যখন দিয়েগো ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ জিতেছিলেন) তখনও অনেকে বলেছিল আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে।’ মিশরের বিপক্ষে ভিএআরের সিদ্ধান্তে তাদের একটি গোল বাতিল হয়েছিল। তবে স্কালোনির মতে, রেফারির সিদ্ধান্ত ছিল সঠিক। তিনি বলেন, ‘রেফারিং নিয়ে সবকিছু খুব পরিষ্কার ছিল। বিশ্বকাপ শুরুর আগে রেফারিরা সবাইকে জানিয়েছিলেন, নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে। তারা বলেছিলেন, “এভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এবং ঠিক সেটাই হয়েছে।’ ‘হয়তো কখনো কখনো মানুষের মনে হয়, আরও বেশি কিছু দেওয়া উচিত ছিল বা কম দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু নিয়ম প্রয়োগের ধরনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অন্যভাবে দেখার সুযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবকিছুকে বড় করে তোলে। সেখান থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়। কিন্তু কোনো পক্ষপাতিত্ব হয়নি। বরং বর্তমান সময়ে পক্ষপাতিত্ব করা অনেক কঠিন।’
























































Discussion about this post