নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলাধীন জেলার সবচেয়ে বড় ডিঙ্গাপোতা হাওরের চরহাইজদা ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের ব্লক লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।এ সপ্তাহে উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের করাচাপুর গ্রামের চরহাইজদা ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ থেকে অন্তত ২ হাজারের বেশি ব্লক লুট হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা।ফলে বাঁধটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, জেলার হাওর অঞ্চল মোহনগঞ্জে অবস্থিত জেলার সবচেয়ে বড় হাওর ডিঙ্গাপোতা।এ হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ২০১৯ সালে ৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫.৩ কিলোমিটার স্থানে ব্লক দিয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পাউবো।এ বাঁধ থেকে লোকচক্ষুর আড়ালে দুর্বৃত্তরা ব্লকগুলো খুলে নিয়ে যাচ্ছে।ফলে বাঁধটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৮ আগস্ট রাতে চরহাইজদা ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের ব্লক নেয়া শুরু করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন বিষয়টি পাউবোর পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ না থাকায় প্রতি রাতে ওই বাঁধ থেকে ব্লক নিয়ে যাচ্ছে বলে জানান হাওর পাড়ের কৃষকরা। গত মাসেও মাছ ধরতে গিয়ে বাঁধটির কয়েকটি অংশ রাতের আঁধারে কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এভাবে ব্লক লুট চলতে থাকলে আগামী বোরো ফসল রক্ষা করা কঠিন হবে বলে আতঙ্কে আছেন এলাকার কৃষকেরা। এজন্য অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তারা। অন্যথায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যেশ্য চরমভাবে ব্যাহত হবে। বরান্তর গ্রামের বজলু মিয়া জানান, ১৮ আগস্ট রাতে ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের ২৭-২৮ জন নৌকায় করে বেশকিছু ব্লক নিয়ে যাচ্ছিল। বাধা দেওয়ায় তাঁকে গালাগাল করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হুমকি প্রদান করে। এতে বাধা দিলে পরদিন রাতে বজলু মিয়ার মাছের আড়তেও হামলা চালায় ব্লক চুরেরা। এই ঘটনায় তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ গ্রামের অপর কৃষক তানিম খান আদনান জানান, ১৮ আগস্ট রাত থেকে ফসল রক্ষা বাঁধের ব্লক লুট শুরু হয়েছে। এখন প্রতি রাতে ব্লক লুট হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানানো হয়েছে। থানায় অভিযোগ ও জিডি হয়েছে। কিন্তু পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো জোরালো পদক্ষেপ নেই। অস্ত্রের ভয়ে এলাকার লোকজন বাঁধা দিতে সাহস পায় না। এ সম্পর্কে গাগলাজুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফ চৌধুরী বলেন, ঘটনা সত্য। পাশের ধরুন বানিয়াহারী গ্রামের অনেকেই বেড়িবাঁধের এসব ব্লক রাতের বেলা নিয়ে গেছে। ওই গ্রামের ঘরে ঘরে এসব ব্লক পাওয়া যাবে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও ব্লক চুরি থামেনি। এলাকার নেতারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ব্লক ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। জানতে চাইলে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ব্লক সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাসহ ওই এলাকার লোকজনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত লুট হওয়া ব্লক আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।ফেরত না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও আমেনা খাতুন বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যারা এসব ব্লক নিয়েছে, তাদের বাড়িতেও গিয়ে দেখে এসেছে। জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। দু-তিন দিনের মধ্যে বাঁধের যে জায়গা থেকে ব্লক নিয়েছিল, সেখানে পুনরায় রেখে আসার জন্য। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই ঘটনায় এলাকার দায়িত্বে থাকা পাউবোর কর্মকর্তা থানায় জিডি করেছেন। পাশের গ্রামের যারা এসব ব্লক নিয়েছে, পুলিশ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা আলোচনা করে ব্লক বাঁধের ওপর ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।























































Discussion about this post