আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র বিরোধ মিটিয়ে এখন সমঝোতা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এক আন্তর্জাতিক বার্তায় তিনি বলেন, ‘আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফনানুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য আমরা তেহরানকে এক সপ্তাহের সময় (ছুটি) দিয়েছি, কারণ আমরা ভালো মানুষ।’ গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট রাশমোরে দেশটির ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। দীর্ঘ ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব, কমিউনিজমের হুমকি এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে মার্কিন সামরিক শক্তির একক আধিপত্যের কথা তুলে ধরে দম্ভ প্রকাশ করেন। সেখানেই মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা মাত্র একদিনের ব্যবধানে ভেনিজুয়েলাকে পরাস্ত করেছি এবং ইরানকে একেবারে কোণঠাসা (ধরাশায়ী) করে ফেলেছি। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা যে করেই হোক আমাদের সাথে মীমাংসা করতে চায়; মীমাংসার জন্য তারা এখন কার্যত মরিয়া। ইরানের চলমান শোকের আবহের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও যোগ করেন, আমরা ভালো মানুষ বলেই খামেনির শেষকৃত্য ও দাফন অনুষ্ঠানের জন্য তেহরানকে এক সপ্তাহের সময় দিয়েছি। এর আগে গত শুক্রবার ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন প্রথমবার প্রকাশ্যে আনা হয়। তেহরানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সরকারি সূচি অনুযায়ী, আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববার তাঁর কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য রাখা হবে। সেখানে প্রিয় নেতাকে বিদায় জানাতে এবং মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ‘লাল পতাকা’ হাতে ইতিমধ্যে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। তেহরানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খামেনির মরদেহ পর্যায়ক্রমে ধর্মীয় পবিত্র নগরী কোমে এবং এরপর ইরাকের নাজাফ হয়ে কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে সবশেষে ইরানের মাশহাদ শহরে ফিরিয়ে এনে ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে তাঁর দাফন সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। ভূরাজনৈতিক এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।























































Discussion about this post