গাইবান্ধা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আপা যে পথে হেঁটেছেন, এখন আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন। অত্যাচারীর এই পথ পালানোর পথ, এই পথে হাঁটলে মক্কায় যেতে পারবেন না, দিল্লি যেতে হবে।’আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের হত্যাকারীদের বিচার এবং দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।জামায়াতে আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে থাকে না, এটি একটি ভাইরাস। এক ফ্যাসিবাদকে তাড়ালে হবে না, জনগণ আর কোনো ফ্যাসিবাদ চায় না। বাংলার জমিনে কোনো ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা প্রস্তুত থাকুন, যেভাবে ২০২৪ সালে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, হয়তো আবারও রাস্তায় নামতে হতে পারে। জাতির কল্যাণে একবার নয়, শতবার নামব, ইনশাআল্লাহ।’ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা গত ১৫ বছর মজলুম ছিলাম। মজলুমরা কি এখন আবার জালিম হতে চাইবে? এই সরকার গঠনের পর আমাদের পাঁচজনকে খুন করা হয়েছে। আমরা কি চাই, আবার খুনের রাজত্ব কায়েম হোক? না, চাই না। তাই এখানেই ফুলস্টপ। আর সামনে খুনের দিকে পা বাড়াবেন না। এই বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যুবকেরা কারো চোখ রাঙানিকে ভয় পায় না।’আমিরে জামায়াত বলেন, ‘বৃহত্তর রংপুরবাসীকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। যারা বঞ্চিত করবে, তারা হলো গণদুশমন।’পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে না আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৪-এর বিপ্লব হয়েছে সমাজ থেকে সব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য। যারা চাঁদাবাজি ও দখলদারির নেশায় আসক্ত হয়ে মানুষ খুন করছে, তারা সমাজের আবর্জনা। সমাজ থেকে এসব পরিষ্কার করতে হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতা কারও কোমরের নিচে চিরস্থায়ী নয়। মহান আল্লাহ যাঁদের সম্মান দিয়ে ক্ষমতায় বসান, তাঁদের আবার আছাড় মেরে টুকরো টুকরোও করে দিতে পারেন।’নিহত সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন খুনের বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন কারো দলীয় বাহিনী নয়। প্রশাসন এ দেশের সম্পদ। তাঁরা সবার হয়ে কাজ করবেন।’বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, আফসোস সরকারি দলেন বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা, দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি গতকাল রংপুরে এসেছিলেন, তিনি রংপুরবাসীকে মনের খায়েস ঝেড়েছেন; বলেছেন আপনারা পিছিয়েই থাকবেন কারণ আপনারা জামায়াত আর জাতীয় পার্টিকে ভোট দেন।ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা কাকে ভোট দেব এটা কি বিএনপি ঠিক করে দেবে? তাহলে আরও একটা আইন পাশ করেন যে, আগামীতে বিএনপি ছাড়া আর কাউকে ভোট দেওয়া যাবে না। তখন জনগণ তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে ইনশাআল্লাহ।গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির আব্দুল করিম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইন, সেক্রেটারি আব্দুল গফুর প্রমুখ।এর আগে জামায়াত আমির উপজেলার বোনারপাড়া শিমুলতাইর এলাকায় নিহত ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন।
























































Discussion about this post