রাঙামাটি প্রতিনিধি: বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলে ও ভাতিজাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন রাঙামাটির জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ২০১৭ সালে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে শান্তিলাল চাকমাকে হত্যার মামলায় মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নিহত শান্তিলাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমা (২২) ও ভাতিজা আলোময় চাকমা (৩২)। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাঙামাটির জেলা ও দায়রা জজ মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শান্তিলাল চাকমা। এ সময় তাঁর ছেলে সোহেল চাকমা ঘরে প্রবেশ করেন। বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সোহেল তাঁর বাবার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যান। এ সময় তাঁর চাচাতো ভাই আলোময় চাকমা সহযোগিতা করেন। পরে দুজন মিলে শান্তিলাল চাকমাকে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। এতে মৃত্যু না হওয়ায় সোহেল চাকমা ধারালো দা দিয়ে তাঁর বাবার গলা কেটে হত্যা করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে ভাতিজা আলোময় চাচা শান্তিলালের রক্তপান করেন। এরপর দুই আসামি মরদেহ গাছের গুঁড়ির সঙ্গে বেঁধে পানিতে ফেলে লাশ গুমের চেষ্টা করেন। ঘটনাটি শান্তিলালের বন্ধু বিনয় শংকর চাকমা দেখতে পান। তাঁকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে তিনি পুলিশকে বিষয়টি জানান এবং আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোহেল চাকমাকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলার নথি অনুযায়ী, অপর আসামি আলোময় চাকমাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ডে নেওয়ার পর তিনি হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) প্রতিম রায় পাম্পু বলেন, দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে চলা মামলায় আদালত ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি, আসামির বক্তব্য ও পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে আদালত তাঁদের উভয়কে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
























































Discussion about this post