আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান তার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, দেশটির ভূখণ্ডে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের কোনো সামরিক ঘাঁটি বা অঞ্চল ব্যবহার করতে না পারে, তা অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। ইরান দাবি করেছে, মার্কিন ঘাঁটিতে তাদের পাল্টা হামলা জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বৈধ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে “ঔপনিবেশিক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ” বলে সমালোচনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর স্পষ্ট দায়িত্ব রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যেন তাদের স্থল, জলসীমা ও আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি নিতে বা অভিযান পরিচালনা করতে না পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ইরানের প্রতিরক্ষামূলক হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার স্বীকৃত ও সহজাত অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” মন্ত্রণালয় পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য তাদের স্থাপনা এবং স্থল, সমুদ্র ও আকাশসীমা ব্যবহার করা থেকে হামলাকারীদের অবিলম্বে বিরত রাখতে হবে, যাতে এই অঞ্চলে যুদ্ধের আগুনের বিস্তার বন্ধ করা যায়।” বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “অশুভ পরিকল্পনা” যেন সফল না হয়, যার লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে শত্রুতা ও অবিশ্বাস তৈরি করা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, “প্রতিবেশী দেশ বা অঞ্চলের কোনো দেশের প্রতিই ইরানের কোনো শত্রুতা বা বিদ্বেষ নেই।” তারা আরও জানায়, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার একমাত্র পথ হলো—যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ধ্বংসাত্মক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা।






















































Discussion about this post