ঢাকা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। তাই একটি দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় অপরিহার্য। সোমবার রাজধানীর তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন সংবাদপত্র বন্ধের ঘটনার স্মরণে ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমকে আরও নিখুঁত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব মূলত গণমাধ্যমেরই। তবে এ লক্ষ্যে সরকার, সম্পাদক, সাংবাদিক এবং অন্যান্য অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে গণমাধ্যম সংস্কার ও উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। ফলে দেশের গণমাধ্যম কাঙ্ক্ষিত শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করতে পারেনি। তিনি বলেন, “যদি আমরা শুরুতেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে ব্যর্থ হই, তাহলে অতীতের মতো এবারও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন কঠিন হবে।” স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ভিন্নমতকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধারণ ও চর্চার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্রের কার্যকর চর্চাও সম্ভব নয়। সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক ও সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তিনি দাবি করেন, অতীতে সংবাদমাধ্যমের ওপর বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘটনা ঘটেছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি গণমাধ্যম পরিবেশ চাই, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। কোনো মতের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার জবাব যুক্তি ও লেখনীর মাধ্যমে দেওয়া হবে, কণ্ঠরোধের মাধ্যমে নয়।” মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের লক্ষ্য হলো মিডিয়াকে গোষ্ঠীকেন্দ্রিক প্রভাবমুক্ত করে একটি জাতীয় চরিত্রসম্পন্ন প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া। এজন্য সংগঠনটিতে ঢাকার বাইরের সম্পাদকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুগান্তর সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার। এছাড়া সেমিনারে নয়াদিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, পিআইবি চেয়ারম্যান ফারুক ওয়াসিফসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।























































Discussion about this post