আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে বলে লেবানন সরকার জানিয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ করবে এবং ইসরায়েলও লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালাবে না। যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের দূতাবাস বলেছে, তারা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই সমঝোতার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের শহর ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানো বন্ধ না করে, তাহলে বৈরুতে আবারও হামলা হতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি নেতানিয়াহু ও হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষ গুলি ও হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। সোমবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে লেবাননের দূতাবাস জানায়, এই প্রস্তাব অনুযায়ী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলা বন্ধ হবে। এর বিনিময়ে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাবে না। এ ছাড়া, যুদ্ধবিরতির এই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে পুরো লেবাননজুড়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষ যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে জানানোর পরও কিছু এলাকায় সংঘর্ষ চলতে থাকে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের দুটি গ্রামের কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি ট্যাংক ও সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন এবং কামানের গোলা ব্যবহার করে তিনটি হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবানন থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। ডেববিন শহরে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলার নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু। এ ঘটনার পর ইরানের কর্মকর্তারা একের পর এক সতর্কবার্তা দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কোনো একটি ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে তা সব ক্ষেত্রেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শামিল হবে। এদিকে ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করতে পারে। সংস্থাটি আরো বলেছে, ইরান ও তার মিত্ররা প্রয়োজনে নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় করতে পারে, যার মধ্যে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বাব আল-মান্দাব প্রণালিও রয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। তিনি আরো জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এর ফলে বৈরুতে আর কোনো ইসরায়েলি সেনা পাঠানো হবে না এবং যেসব সেনা সেখানে যাওয়ার পথে ছিল, তাদেরও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো দাবি করেন, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও তার ভালো আলোচনা হয়েছে। হিজবুল্লাহ নাকি সব ধরনের গুলি ও হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে। একইভাবে ইসরায়েলও তাদের ওপর হামলা চালাবে না। রবিবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননে উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমানোর একটি প্রস্তাব ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কাছে তুলে ধরেছেন। গত ১৬ এপ্রিল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী দুইবার বৈরুতে হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ হামলাটি হয় বৃহস্পতিবার। তবে আগের তুলনায় হামলার সংখ্যা কমেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হোয়াইট হাউস ইসরায়েলের ওপর বৈরুতে সামরিক অভিযান সীমিত রাখার চাপ দিচ্ছে। এদিকে, ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি।
























































Discussion about this post