ঢাকা : আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো মহামূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) লেনদেনের একপর্যায়ে স্পট মার্কেটে সোনার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এতে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ২১৯ দশমিক ৯৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা বিশ্ববাজারের ইতিহাসে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সোনার দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচার ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ডলারের মান চার বছরের মধ্যে প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বেড়েছে। মঙ্গলবার ৩ শতাংশের বেশি বাড়ার পর বুধবার প্রথমবারের মতো সোনার দাম ৫ হাজার ২০০ ডলার ছাড়ায়। সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, ডলারের দুর্বলতার প্রভাবেই সোনার দাম বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে ডলারের মান আরও কমতে পারে। এতে সোনার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডলারের মূল্য চার বছরের ন্যূনতম পর্যায়ে থাকায় বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প বলেন, ডলারের মূল্য ‘অনেক বেশি’ এবং শিগগিরই ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে, যিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদের হার কমাতে পারেন। তবে জানুয়ারির মুদ্রানীতি সভায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেলভিন ওংয়ের মতে, স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২৪০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এদিকে, ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৬ সালে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৬ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ডলারভিত্তিক সম্পদের পরিবর্তে বাস্তব ও নিরাপদ সম্পদে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করছেন। অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট সিলভার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১১৩ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। এছাড়া স্পট প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৬৭৯ দশমিক ১৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৫১ দশমিক ৯৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দুর্বলতা, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বাড়তে পারে সোনাসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম।
























































Discussion about this post