ঢাকা : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত নির্বাচনের মতো নির্বাচন আমরা দেখতে চাই না। কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন আমরা করতে চাই না। গতকাল রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির বলেন, ‘চব্বিশের জটিল দিনগুলোয় সেনাবাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে, এটা আমার এবং আমার দলের পারসেপশন, জাতি সিভিল ওয়ার (গৃহযুদ্ধ) থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগস্টের ৩, ৪ এবং ৫ তারিখ আপনারা যে ভূমিকা রেখেছেন সেটা না রাখলে আজকে বাংলাদেশে এখানে দাঁড়িয়ে আমি কথা বলতে পারতাম না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমরা এ পরিবর্তন, বিপ্লব, গণ অভ্যুত্থান আমরা যে ভাষাই বলি, তার কোনো ক্রেডিট দল হিসেবে আমরা দাবি করিনি। বরং আমাদের সরকারপ্রধান দেশের বাইরে কোনো একজন বিপ্লবের অংশীদারকে বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড বলেছিলেন। আমিই প্রথম ব্যক্তি, আমি বলেছিলাম, এখানে কোনো ব্যক্তি মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না। যদি এক ব্যক্তিকে মাস্টারমাইন্ড করা হয় বাকি সব ব্যক্তিকে আন্ডারমাইন্ড করা হবে, ওইটা আমরা মানি না। এখানে বাংলাদেশের বিপ্লবী জনগণ, সবাই মিলে আমরা মাস্টারমাইন্ড।’ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সেসময় এ দেশের জনগণের সঙ্গে ইনসাফের আচরণ করেনি বলেও উল্লখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আজকের এ সময়টা জাতির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। ১৯০ বছরের গোলামির জিঞ্জির ছিঁড়ে উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছিল। সামান্য কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার ব্যবধানে পাকিস্তান এবং ভারত নামে আলাদা আলাদা দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। ওইদিন যে ভূখ টি পূর্ব পাকিস্তান ছিল, সময়ের পরিক্রমায় আজকে এটি বাংলাদেশ। ২৩ বছর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে আমরা একসঙ্গে চলেছি। সে সময়টা যারা পশ্চিম পাকিস্তানের ছিলেন, তারা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের সঙ্গে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করেননি। এ বৈষম্যের বিরুদ্ধেরই একটা নীরব দ্রোহ ছিল সত্তরের নির্বাচন। পরবর্তীতে এ নির্বাচনের হাত ধরেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, অসংখ্য জীবনদান, বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে পুনরায় দ্বিতীয় স্বাধীনতা, বাংলাদেশের জন্ম।’ জনগণ অন্য দল পছন্দ করলে সহযোগিতা করব : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণ সুশাসন নিশ্চিত করবে। জনগণের প্রতি আমাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে। দেশের মা-বোনেরাও নির্বাচনে জামায়াতকে বেছে নেবে। আমরা শুধু চাই নির্বাচনটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক।’ নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যদি অন্য কোনো দলকে পছন্দ করে আমরা তাদের সহযোগিতা করব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংস্কারের পক্ষে যারা থাকবে আমরা তাদের সঙ্গে থাকব।’ গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন তিনি। সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত : গতকাল বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। চীনা রাষ্ট্রদূত ও জামায়াত আমির দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।






















































Discussion about this post