আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক বিস্ফোরক মন্তব্যে সতর্ক করে বলেছেন যে লাগামছাড়া উন্নয়ন বন্ধ না হলে হিমাচল প্রদেশ একদিন দেশের মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জোর দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছেন, যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না হয়, তবে গোটা রাজ্যই একদিন বিলীন হয়ে যাবে।গতকাল শুক্রবার (১ আগস্ট) বিচারপতি জে বি পর্দিওয়াল ও বিচারপতি আর মাধবনের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে জনস্বার্থে একটি মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মামলায় হিমাচল প্রদেশ সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের মতামত জানাতে বলা হয়েছে।হিমাচল প্রদেশের একটি হোটেল সংস্থা তাদের নির্মাণকাজে বাধা পাওয়ায় হাইকোর্টে মামলা করেছিল। রাজ্য সরকার ‘গ্রিনজোন’ এলাকায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়, এবং হাইকোর্টও রাজ্য সরকারের পক্ষে রায় দেয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ওই হোটেল সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে বিচারপতিরা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেন। তবে তাঁরা বৃহত্তর জনস্বার্থে এই বিষয়ে মন্তব্য করেন।বিচারপতিরা বলেন, “এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। বিধিনিষেধ অনেক আগেই জারি করা উচিত ছিল।” তাঁরা উল্লেখ করেন যে হিমাচল প্রদেশের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যাচ্ছে, যার ফলে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুল সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, “শুধু রাজস্ব আদায়ই একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের বারোটা বাজিয়ে রাজস্ব আদায় চলতে থাকলে একদিন হিমাচল প্রদেশ রাজ্যটাই বিলীন হয়ে যাবে।” বিচারপতিরা বলেন, এই অবস্থার জন্য প্রকৃতি নয়, মানুষই দায়ী। অপ্রয়োজনীয় নির্মাণকাজ, চার লেনের রাস্তা, রোপওয়ে এবং সুড়ঙ্গ তৈরির মতো লাগামছাড়া উন্নয়নের জন্য পরিবেশ-সংক্রান্ত নিয়মকানুন উপেক্ষা করা হয়েছে।বিচারপতিরা আরও বলেন যে পর্যটন রাজ্যের আয়ের মূল উৎস হলেও, পরিবেশের তোয়াক্কা না করে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন বৃদ্ধি রাজ্যকে রসাতলে পাঠাবে। তাঁরা অবিলম্বে সতর্ক হতে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, “দেদার গাছ কাটা ও লাগামছাড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি বন্ধ করা দরকার। যত পর্যটক আসছে, তত ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। এখনই সতর্ক না হলে মানচিত্র থেকে রাজ্যটাই মুছে যাবে।”সাম্প্রতিক বন্যায় হিমাচল প্রদেশে ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া বার্তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।























































Discussion about this post