ঢাকা : নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে ভোলা-১ (সদর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের জেলা আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে তার আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম বাছেদের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এর পর আসনটিতে বিএনপি জোটের একক প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থের। গোলাম নবী আলমগীরের ১১ জানুয়ারি সই করা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদনটি সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর প্রার্থী হিসেবে তিনি (গোলাম নবী আলমগীর) মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যা ৩ জানুয়ারির যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়। ব্যক্তিগত কারণে তিনি মনোনয়নপত্রটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গোলাম নবী আলমগীরের আইনজীবী আমিরুল ইসলাম বাছেদ সমকালের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভোলা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর ও বিএনপি জোটের শরিক বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে স্থানীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা দেখা দেয়। এ নিয়ে দল দুটির স্থানীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর বিকেলে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে ককটেল হামলার জেরে বিজেপি কার্যালয়ে হামলা হয়। এ দিন বিকেলে নতুন বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেদিন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপান জানিয়েছিলেন, ছাত্রদল নেতা সিফাত হত্যার বিচার দাবিতে তারা মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিজেপি অফিস থেকে ককটেল ছোড়া হয়। এ সময় মিছিলকারীরা ককটেল নিক্ষেপকারীদের ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বিএনপির কেউ বিজেপি অফিসে হামলা বা ভাঙচুর করেনি বলেও দাবি করেন তিনি। বিজেপির জেলা সেক্রেটারি মো. মোতাছিন বিল্লাহর অভিযোগ ছিল, বিএনপির মিছিল থেকে তাদের অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় তাদের নির্বাচনী লিফলেট ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। বিজেপির কেউ বিএনপির মিছিলে ককটেল মারেননি। দুই প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সোমবার গোলাম নবী আলমগীরের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে এসব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। একই আসনে আন্দালিব রহমান পার্থর বিপরীতে আছেন জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওবায়দুর রহমান, এনপিপির মো. মিজানুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান জুয়েল ও ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতদিন বিএনপি-বিজেপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস থাকলেও এখন সেই হিসাব বদলে গেছে। আন্দালিব রহমান পার্থের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলামের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।






















































Discussion about this post