বিজয় চন্দ্র দাস(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: বুড়ো বয়সেও বসতঘরে ঘুমানোর জায়গা ছিল না জেলার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরে এক হাজং দম্পতির। একটুখানি বৃষ্টি হলেই ভাঙা চাল দিয়ে গড়িয়ে পড়ত বৃষ্টির পানি।সেই পানি ঠেকাতে পলিথিন আর হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে বিনিদ্র রাত যাপন করতে হতো বয়োবৃদ্ধ কিরণ হাজং ও পিকুলা হাজং পরিবারের। দারিদ্রের কষাঘাতে তরকারি দূরে থাক,নুন আনতে পান্তা ভাত খেয়ে দিন অতিবাহিত হয়েছে তাদের। অন্যের বাড়িতে কাজ করে ও তাদের নিজেদের সংসারই চলে না। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই দম্পতির কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতাও। অবহেলা আর চরম দারিদ্র্য আর মানবেতর জীবনযাপন করা হাজং এই দম্পতি সুখের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন।খবর পেয়ে নিজস্ব অর্থায়নে নতুন পাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করে উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে এক উৎসবমুখর পরিবেশে ফিতা কেটে ও চাবি হস্তান্তরের মাধ্যমে ঘরটি দম্পতির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূল অবহেলিত এ দম্পতির করুণ পরিণতির কথা জানান ২নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রিতা নকরেক। তিনি জানান, তার মেয়ে স্থানীয় কারিতাসের কিশোরী ক্লাবে যেত। সেই সুবাদে তিনি হাজং অধ্যুষিত গ্রাম শ্যামনগর এলাকায় গিয়ে কিরণ-পিকুলা দম্পতির জরাজীর্ণ ঘর ও মানবেতর জীবনযাপ ন দেখতে পান। এ সম্পর্কে রিতা নকরেক বলেন,অসহায় দরিদ্র বয়স্ক দুজন মানুষ চরম কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন। তাদের ঘরবাড়ি ছিল না, খাবার ছিল না। লবণ দিয়ে ভাত খেত তারা। তাদের কষ্ট দেখে আমার খুব মায়া লাগে। এরপর আমি দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের বিষয়টি জানাই। সাংবাদিকরা তাদের ভাঙা ঘর ও পলিথিন মোড়ানো চালের ভিডিও এবং ছবিসহ নিউজ করেন। জানতে চাইলে বৃদ্ধ কিরণ হাজং তিনি বলেন, “ সবার আগে সাংবাদিকরা আইসা আমগোর ভাঙা ঘর, ব্যাগ, আর লবণ দিয়া ভাত খাওয়ার ছবি তুইলা নিছিল। বৃষ্টির দিনে পানি পড়লে পলিথিন দিয়া, বাটি দিয়া পানি ঠেকাইতাম। রাইতে ঘুমাইতে পারতাম না। একটা ভালো ঘরে থাকার স্বপ্ন আছিল, আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হইছে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্বপ্ন পূরণ করছেন, তার জন্য দোয়া করি।” স্ত্রী পিকুলা হাজং বলেন, “একসময় অনেক কষ্টে আছিলাম। ভাঙা ঘরে পানি পড়ত। এখন আমরা অনেক খুশি। শেষ বয়সে শান্তিতে থাকবাম। যিনি আমাদের ঘর দিছেন, তিনি যেন আরও বড় মানুষ হতে পারেন, সেই দোয়া করি।” তবে নতুন ঘরে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তিনি বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিও জানান। হাজং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দ্বিজেন্দ্র হাজং বলেন, “কিরণ হাজং ও পিকুলা হাজং বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছিলেন। বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও তারা তা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। মাননীয় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এত দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের জন্য একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে মানবতার উদাহরণ হন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন মাস্টার, দুর্গাপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, কলমাকান্দার লেংগুরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মিলন।























































Discussion about this post