ঢাকা : বাংলাদেশে দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ চললেও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দেশে শনাক্ত হওয়া ৯ জন রোগীর প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ, গত দুই বছরে এই ভাইরাসে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে শতভাগে। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৩৪৭ জন নিপাহ আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছেন ২৪৯ জন (৭১ দশমিক ৭৫ শতাংশ)। তবে সাম্প্রতিক এই রেকর্ড মৃত্যুহার এবং শীতের মৌসুম ছাড়িয়ে বছরের অন্য সময়েও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। গত আগস্টে নওগাঁয় আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম ‘অমৌসুমি’ নিপাহ সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খেজুরের রসের বদলে বাদুড়ের আধখাওয়া ফল থেকে ওই শিশুটি সংক্রমিত হয়েছিল। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি, কাশি, ঘাড় ও পেশিতে ব্যথা, অসংলগ্ন আচরণ ও প্রলাপ বকা, খিঁচুনি এবং অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া এই ভাইরাসের সংক্রমণে এনসেফালাইটিস ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি স্বাভাবিকভাবে বেশি। চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে জটিলতা বেড়ে গিয়ে মৃত্যুহার আরও বেড়ে যেতে পারে। আইইডিসিআর এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন: কাঁচা রস বর্জন: কোনোভাবেই খেজুরের কাঁচা রস পান করা যাবে না। এমনকি অনলাইন থেকে কেনা বা তথাকথিত ‘নিরাপদ’ রস উৎসব থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আধখাওয়া ফল: বাদুড় বা পাখির মুখ দেওয়া কোনো ফল খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ: নিপাহ আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ থেকেও এটি ছড়াতে পারে, যা অতীতে প্রায় অর্ধেক সংক্রমণের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরিফুল বাসার জানান, নিপাহ ভাইরাসে মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি। দ্রুত চিকিৎসা শুরু না করাও শতভাগ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে। বর্তমানে এই ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা ওষুধ নেই। আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বলেন, “সচেতনতাই নিপাহ প্রতিরোধের একমাত্র পথ।” বর্তমানে দেশের ৩৫টি জেলায় এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও নওগাঁর মতো জেলাগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।























































Discussion about this post