আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের এজেন্ট হিসেবে আমেরিকায় ছদ্মনামে সাংবাদিকতা করার ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছেন থমাস পাউকেন দ্বিতীয় নামে এক ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন চীনে বসবাসকারী মার্কিন সাংবাদিক থমাস পাউকেন দ্বিতীয় ফেডারেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন যে, তিনি যথাযথ সরকারি অনুমতি ও নিবন্ধন ছাড়াই চীনের পক্ষে এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এই ঘটনায় তাকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে সাজা দেওয়া হবে। তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। টম ম্যাকগ্রেগর নামে পরিচিতি ও পটভূমি থমাস পাউকেন দ্বিতীয় অনলাইন লেখালেখি ও সাংবাদিকতার কাজে ‘টম ম্যাকগ্রেগর’ নামে পরিচিত। তিনি তার একই নামের পিতার সঙ্গে বিভ্রান্তি এড়াতে এই ছদ্মনাম ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে। তার পিতা ১৯৯০-এর দশকে টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পরবর্তীতে গভর্নর পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পাউকেন ২০১০ সাল থেকে চীনে বসবাস করে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগের মূল বিষয় কী যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পাউকেন চীনা সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কাজ করতেন। তিনি তাদের জন্য রিপোর্ট প্রস্তুত ও তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাতেন, যা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, তিনি ‘ক্যাথি’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করতেন, যাকে তিনি চীনের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করতেন। এই কাজের বিনিময়ে তিনি প্রায় এক লাখ মার্কিন ডলার এবং বিভিন্ন ভ্রমণ সুবিধা পেয়েছেন। মার্কিন তদন্ত ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় সীমান্তে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে এক বৈঠকের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এক ব্যক্তিকে ট্রাম্প প্রশাসনে চাকরির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে চীনা পক্ষের জন্য তথ্য সংগ্রহে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। ওই ব্যক্তিকে তিনি সিম কার্ড, ল্যাপটপ এবং ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব দেন, যাতে নিয়মিতভাবে রিপোর্ট সরবরাহ করা হয়। তদন্তকারীরা বলছেন, এসব রিপোর্ট চীনা নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছিল এবং এর মাধ্যমে মার্কিন নীতিতে প্রভাব ফেলার চেষ্টা ছিল।





















































Discussion about this post