বিনোদন ডেস্ক: ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মশিউর রহমান রিংকু। চারবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবনযাত্রা আমূল বদলে গেছে তার। দীর্ঘদিন ধরেই সংগীতাঙ্গন থেকে দূরে আছেন তিনি। বর্তমানে গ্রামের বাড়িতেই নিভৃতে সময় কাটছে এই শিল্পীর। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে সংগীতে আর ফেরা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন রিংকু। তবে জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার একটাই প্রত্যাশা তার সৃষ্টি করা গানগুলো যেন হারিয়ে না যায়। সম্প্রতি ‘পথের গল্প’ নামের একটি ট্রাভেল ডকুমেন্টারিতে অংশ নিয়ে নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, সংগীতজীবন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। রিংকু বলেন, পুরোপুরি গানে ফেরার ইচ্ছা আমার নেই। ইচ্ছা করলেও সেই সম্ভাবনা নেই। কারণ, চারবার স্ট্রোক হয়েছে। এর মধ্যে একবার-দুবার তো কেউ জানতই না। চারবার যখন স্ট্রোক হয়ে গেল, তখন আমি বুঝলাম সব আশা শেষ। এটা মানতে হবে, কারণ এটাই সত্য। আসলে আমি যেভাবে ব্যাক করতে চাই, সেভাবে আর হবে না। পরিপূর্ণভাবে ব্যাক করতে না পারলে ব্যাক করার দরকার নেই। আমি মরে গেলেও গানগুলো তো থাকবে। একটাই আহ্বান আমার, গানগুলো যেন নষ্ট না হয়। শহুরে সম্পর্ক ও ভালোবাসা নিয়েও আক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এই লোকসংগীতশিল্পী। তার কথায়, শহরের মানুষের ভালোবাসা হচ্ছে কাজের জন্য ভালোবাসা। আর গ্রামের মানুষের ভালোবাসা অরিজিনাল। তারাই এখন আমার বন্ধু। একটা কথা আছে কাজ করলে কাজী, কাজ ফুরালে পাজি। ঠিক তেমন হচ্ছে শহরের মানুষের ভালোবাসা। যোগ করে রিংকু বলেন, যদি কারও কাজ করে দিতাম তাহলে ভালোবাসত, কাজ না করে দিলে আমি নেই বিষয়টি এমন আরকি। সেই সময়ের কোনো বন্ধুই নেই এখন। কেউ খোঁজ রাখে না। যদি কারও জন্য কিছু করে থাকি, সেটা আমি করেছি। কিন্তু কারও সিমপ্যাথি আমি চাই না। ২০২০ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই শারীরিকভাবে ভীষণ ভুগছেন রিংকু। শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়ে তার জন্য। সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই এখন গ্রামের মানুষদের সান্নিধ্যে দিন কাটছে শ্রোতাপ্রিয় এই শিল্পীর।






















































Discussion about this post