বিজয় চন্দ্র দাস(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: আজ কালজয়ী লেখক অধ্যাপক যতীন সরকারের জন্মদিন। লেখক অধ্যাপক যতীন সরকার ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ আগস্ট নেত্রকোনার কেন্দুয়ার চন্দপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চার দশকের বেশি সময় ধরে উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষকতা পেশায় জনপ্রিয়তার সাথে জড়িত ছিলেন। তারপর ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে অবসরগ্রহণের পর যতীন সরকার স্ত্রী কানন সরকারকে নিয়ে ফিরে আসেন জেলা শহর নেত্রকোনায়। তিনি সেখানে বানপ্রস্থ ভবনে শহরের সাতপাই এলাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত ছিলেন। রাশিয়া প্রবাসী ছেলে সুমন সরকার, মেয়ে সুদীপ্তা সরকারসহ অগণিত পাঠক ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি। ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক সুদীর্ঘকাল ধরে মননশীল সাহিত্যচর্চা, বাম রাজনীতি ও প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দুই মেয়াদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য ভূমিকা ছিল।লেখক হিসেবে যতীন সরকার ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা পুরস্কার, ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পদক, ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শন গ্রন্থের জন্য প্রথম আলো বর্ষসেরা গ্রন্থ পুরস্কার পান। এ ছাড়া তিনি ড. এনামুল হক স্বর্ণপদক, খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার, মনিরুদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন। ৪২ বছরের বেশি সময় শিক্ষকতা পেশায় থেকে ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে অবসরগ্রহণের পর যতীন সরকার স্ত্রী কানন সরকারকে নিয়ে প্রাণের টানে চলে যান নিজ জেলা নেত্রকোনায়। ছাত্রজীবনে লেখালেখি শুরু হলেও যতীন সরকারের প্রথম বই ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে, ৫০ বছর বয়সে। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের কবি গান, বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সংগ্রাম, গল্পে গল্পে ব্যাকরণ, মানবমন মানব ধর্ম ও সমাজ বিপ্লব, পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শন, পাকিস্তানের ভূত দর্শন, দ্বিজাতিতত্ত্ব নিয়তিবাদ ও বিজ্ঞান চেতনা, ধর্মতন্ত্রী মৌলবাদের ভূতভবিষ্যৎ, বিনষ্ট রাজনীতি ও সংস্কৃতি, প্রাকৃতজনের জীবনদর্শন, ভাবনার মুক্তবাতায়নসহ অর্ধশত বই। সেই সঙ্গে তিনি সম্পাদনা করেছেন বহু গ্রন্থ। সমাজ অর্থনীতি ও রাষ্ট্র নামে তত্ত্বমূলক ত্রৈমাসিক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন তিনি।২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ আগস্ট বিশিষ্ট এই প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক পরলোক গমন করেন। কিডনিসংক্রান্ত জটিলতাসহ বাধ্যর্কজনিত নানা অসুস্থতায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর দেহাবসান হয়।























































Discussion about this post