আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তাইল্যান্ডের ফুকেত থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে মাঝ-আকাশে ভয়াবহ বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ডোপ টেস্ট বা মাদক পরীক্ষায় ওই বিমানের পাইলটের শরীরে গাঁজার (মরিজুয়ানা) উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সুরক্ষার খাতিরে সংস্থার সমস্ত পাইলটের জন্য মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঘটনাটি গত ৪ আগস্টের। ফুকেত থেকে ১৩৭ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু নিয়ে দিল্লি আসছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। ওড়িশার আকাশসীমা অতিক্রম করার সময় হঠাৎই বিমানটি ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। দীর্ঘ চার সেকেন্ড বিমানের যন্ত্রপাতির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল ককপিট। প্রবল ঝাঁকুনিতে বিমানে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় পাইলট নিজের নির্দিষ্ট আসনে ছিলেন না। বিমানটি দিল্লিতে অবতরণের পর পাইলটের শারীরিক অবস্থা অস্বাভাবিক ছিল বলেও অভিযোগ করেন বিমানের অন্য কর্মীরা। বিমানবন্দরে ঠিকমতো দাঁড়াতে না পারায় প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহের সময়ও তাঁকে শারীরিক সহায়তা নিতে হয়েছিল। পরে পরীক্ষার রিপোর্ট আসতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এদিকে, এই ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া তাদের পাইলটদের জন্য কঠোর নতুন এসওপি (SOP) বা নিয়মাবলি জারি করেছে। সংস্থাটি তাদের ৩০০-র বেশি পাইলটের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে আরও দুজন পাইলটের প্রাথমিক রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ বা অসন্তোষজনক এসেছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী, রিপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত ওই দুই পাইলটকে বিমান চালনার রোস্টার থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
























































Discussion about this post