স্পোর্টস ডেস্ক: সরকার যদি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তবে দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত আছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে শ্রীলঙ্কা থেকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইচ্ছার কথা জানান।সাক্ষাৎকারে ৩৯ বছর বয়সী এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, “সরকার যদি আমার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে, তবে আমি দেশে ফিরতে ও আদালতের মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমার যা যা করা দরকার, আমি করব। কারণ আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।”উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি গত সংসদের একজন সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি তাঁর পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক অবসর নেননি। ঘরের মাঠে বিদায়ী সিরিজ খেলে ক্যারিয়ারের ইতি টানার ইচ্ছা তাঁর দীর্ঘদিনের।সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হওয়ার পর মাগুরায় সাকিবের শূন্য বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সম্মেলনে তিনি কেবল দেশের শান্তি ও অগ্রগতির কথা বলেছেন এবং এ নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই। দেশে ফেরার আগের চেষ্টাগুলোর বিষয়ে সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষভাগে সরকারের কাছ থেকে অভয় পেয়ে তিনি দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানেও উঠেছিলেন। কিন্তু ট্রানজিটে থাকাকালীন তাঁকে দেশে ফিরতে নিষেধ করা হয়। ফলে দুবাই থেকে তিনি আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান। সাকিব বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে কী এমন ঘটেছিল, আমি জানি না।” পরবর্তীতে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার পর, দেশের মাটিতে তাঁর ফেরা আরেক দফা আটকে যায় বলে দাবি করেন তিনি।রয়টার্সের প্রতিবেদনে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তবে তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বিষয়ে সাকিবকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। সাকিব জানান, বর্তমানে দেশে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে-যার একটি আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় এবং অন্যটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।মামলার তদন্তের স্বার্থে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যিনি টানা ১০ বছর দেশের সর্বোচ্চ করদাতা খেলোয়াড় ছিলেন, তাঁর হিসাব এভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য আমি দিতে রাজি, কিন্তু কিছু না পাওয়া গেলে হিসাবগুলো সচল করে দেওয়া উচিত।”দীর্ঘদিন ধরে দেশে ফিরতে না পারায় বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না জানিয়ে এই অলরাউন্ডার বলেন, সময়টা তাঁদের পুরো পরিবারের জন্যই অত্যন্ত কঠিন কাটছে।
























































Discussion about this post