আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি অবরোধের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এই প্রণালি অতিক্রম করতে হলে সব জাহাজকে আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত হারে টোল বা ফি পরিশোধ করতে হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিপিং জার্নাল ‘লয়েডস লিস্ট’ জানায়, ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) একটি নতুন কাঠামো প্রবর্তন করেছে। এর আওতায় ট্রানজিট অনুমোদনের জন্য জাহাজগুলোকে ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ নামক একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই ফর্মে ৪০টিরও বেশি প্রশ্ন রয়েছে, যেখানে জাহাজের মালিকানা, বিমা, ক্রু বা নাবিকদের বিস্তারিত তথ্য এবং প্রস্তাবিত রুট সম্পর্কে নিখুঁত তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া জাহাজের বর্তমান ও পূর্বতন নাম, পরিচয় নম্বর, উৎপত্তিস্থল ও গন্তব্য এবং কার্গোর বিবরণও তেহরানকে জানাতে হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যারা ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানবে, তাদের এই প্রণালি অতিক্রম করতে চরম সংকটে পড়তে হবে। ইতোমধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাদের পতাকাবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের ক্ষেত্রে এই পথ ব্যবহারের অনুমতি মিলবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। এদিকে ইরানের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসন জাহাজগুলোকে এই টোল না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। বাহরাইনের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাসেরও উদ্যোগ নিয়েছে, যদিও রাশিয়া সেই প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে এই জলপথে সৃষ্ট অচলাবস্থা বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অঞ্চলে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে এবং একটি ‘শক্তিশালী ইরান’ গড়তে তারা হরমুজ প্রণালীর এই নিয়ন্ত্রণকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে।























































Discussion about this post