ঢাকা: শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল অলি আহমদ। রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১-দলীয় ঐক্যের এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটি গভীর রাত পর্যন্ত চলে। কর্নেল অলি আহমদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানালেও আমরা আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধানের ওপর জোর দিয়েছি। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে ‘জুলাই সনদ’কে বৈধতা দিয়েছে। তবে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে আসায় দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে কর্নেল অলি বলেন, গত কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে দীক্ষিত হয়ে এবং হাসিনার পরামর্শে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। সেখানে জয়ের পর থেকেই সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় দেখলাম মুসলমানদের গাড়িতে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে নির্যাতন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চাটুকারদের দ্বারা বেষ্টিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাটুকার পরিবেষ্টিত বলয় থেকে বের হয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের মর্যাদা রক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেন, নীতি-নৈতিকতা ও জনসমর্থন ছাড়া শুধু ক্ষমতার জোরে টিকে থাকা সম্ভব নয়। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবী তৃতীয় যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। দেশে সারসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সরকারকে এসব সমস্যার সমাধানে এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বন্ধে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে পালনের ঘোষণা দিলেও বিএনপি এখন তা নিজেদের মতো করে বাস্তবায়ন করতে চাইছে। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, মুহাম্মদ শাহজাহান (সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াত), আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, এমপি, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, সরোয়ার তুষার (যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি), মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম (সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন), সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনি। তিনি বলেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি করে। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চতুর্থ গণভোটের রায় উপেক্ষা করার সমালোচনা করেন এবং তথাকথিত ‘ডি-ফ্যাক্টো’ প্রধানমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালের গণভোটের ধারাবাহিকতায় ১২ ফেব্রুয়ারির রায় মেনে ‘জুলাই সনদ’কে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান।























































Discussion about this post