স্পোর্টস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের উপকূলবর্তী ফক্সবোরোতে ম্যাচটি হলেও পরিবেশটা ছিল যেন ব্রাজিলের ঘরের মাঠ। ৬৬,২১৫ দর্শকের বড় অংশই ছিলেন ভিনিসিয়ুস-রাফিনিয়াদের সমর্থক। যদিও মাঠের খেলায় তাদের হতাশ করেছে সেলেসাওদের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স, আর উল্টো উজ্জ্বল ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে ও হুগো একিতিকে। দুই দফায় পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও শেষ পর্যন্ত পারেনি ব্রাজিল; ১০ জনের ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দিবাগত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বল দখলে কিছুটা এগিয়ে ছিল ফ্রান্স। তবে আক্রমণ ও শটের দিক থেকে এগিয়ে ছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। কিন্তু ব্যবধান গড়ে দেয় গোলই। ফ্রান্সের হয়ে অধিনায়ক এমবাপ্পে চোটের বিতর্ক পেছনে ফেলে গোল করেন, আরেকটি গোল করেন লিভারপুল ফরোয়ার্ড হুগো একিতিকে। ব্রাজিলের পক্ষে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ব্রেমার। ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ তৈরি করেছিল ব্রাজিল, কিন্তু রাফিনিয়া তা কাজে লাগাতে পারেননি। ক্যাসেমিরোর উঁচু পাস ধরে বক্সে ঢুকে তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর একিতিকেও হেডে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে আক্রমণে খুব একটা কার্যকর হতে পারেনি ব্রাজিল। এর মধ্যেই ২৭ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দূরপাল্লার শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। ৩২ মিনিটে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। উসমান দেম্বেলের চমৎকার পাস ধরে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক এডারসনকে চিপ করে গোল করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্সের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেন এমবাপ্পে। তার গোলসংখ্যা এখন ৫৬; শীর্ষে থাকা অলিভিয়ের জিরুর (৫৭) থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে আছেন তিনি। প্রথমার্ধে ব্রাজিল ছয়টি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। বিপরীতে ফ্রান্স পাঁচটি শটের একটি লক্ষ্যে রাখে। বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় ব্রাজিল, একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিং দুর্বলতায় গোল পায়নি। ৫৫ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। দায়োত উপামেকানো ওয়েসলিকে কড়া ফাউল করলে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হয়, পরে ভিএআর দেখে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেন। ফলে ১০ জনে পরিণত হয় ফ্রান্স। তবুও ৬৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দিদিয়ের দেশমের দল। মাইকেল ওলিসের থ্রু পাস ধরে দারুণ ফিনিশিং করেন একিতিকে—জাতীয় দলে এটি তার দ্বিতীয় গোল। ৭৮ মিনিটে ব্রাজিল ব্যবধান কমায়। ফ্রি-কিক থেকে পাওয়া বল ক্যাসেমিরো কাটব্যাক করলে ব্রেমার পা ছুঁইয়ে গোল করেন। জাতীয় দলে এটিই তার প্রথম গোল। শেষ সময়জুড়ে ফ্রান্সের রক্ষণে চাপ বাড়ালেও সমতা ফেরাতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচের শেষদিকে ব্রেমারের বাড়ানো বল গোলমুখে পেয়েও স্পর্শ করতে না পারায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়েন ভিনিসিয়ুসরা।





















































Discussion about this post