ঢাকা: এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আমি গত সরকারের পারচেজিং কমিটিতে ছিলাম। তেলের দুই মাসের মজুদ থাকার কথা। এক মাসের মধ্যে কীভাবে এত দুরবস্থা হয়? অবশ্যই সরকারের ঘনিষ্ঠ কেউ তেল মজুদ করছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, যাদের গণতন্ত্রের আইকন বলা হয়, তারা দলীয় লোককে জেলা ও নগর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গণতন্ত্রকে ভুলণ্ঠিত করেছে। যারা নিয়োগ পেয়েছে তারাই আবার আগামী স্থানীয় সরকারে নির্বাচনে প্রার্থিতা দেবে। তাহলে কীভাবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিবাদবিরোধী লড়াই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। মনে হচ্ছে বিএনপি ক্ষমতার জন্য লড়াই করেছে। বিএনপির সংসদীয় কমিটি গুম সংক্রান্ত রিপোর্ট বাতিল করতে চায়, এতেই বোঝা যায় দলটি দেশকে গুমের অভ্যায়রণ্য রাখতে চায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বলেন, আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদের আসলে ডিপ স্টেট বলা হয়, তাদের থেকে অফার করা হয়েছিল, শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত আপনারা শেষ করেন। আপনারা শেষ করেন আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব। আসিফ মাহমুদ বলেন, তাদের সার্টেন কিছু শর্ত ছিল। তাদের কিছু কিছু জায়গায় ফ্যাসিলিটেট করা এবং তারা রোড ম্যাপও করে নিয়ে আসছিল যে, বিএনপির নেতাদের তো সাজা আছে, সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে না। তাদের সাজাগুলো আদালতের মাধ্যমে এগুলো দীর্ঘ করা, আদালতের ডেট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে। তারেক রহমানের নিজের নামে সাজা ছিল। তিনি যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকতেন নির্বাচন হলেও তিনি অংশ নিতে পারতেন না। তারা পুরো স্ট্রাটেজি আমাদের সাজিয়ে দিয়েছিল। কিভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়। তাদের সঙ্গে এক ধরনের নেগোসিয়েশন সমঝোতার ভিত্তিতে। আমরা কিন্তু সেটাতে সায় দেইনি। তিনি বলেন, আমরা সবসময় গণতন্ত্রকে সামনে রেখে এবং সেটার প্রতি কমিটমেন্ট সরকারের ছিল বলে নির্বাচনটা হয়েছে। নির্বাচনকে নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করে চলে এসেছি। কিন্তু আমরা দেখলাম, বিগত সরকারের দুজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সরকারের মন্ত্রী পদ মর্যাদায় আছেন। যদিও এই সরকার দলই আমাদের পদত্যাগ সেসময় চেয়েছিল। নির্বাচনের লেভেল ফিল্ডের এক ধরনের যুক্তি দাড় করেছে। কিন্তু তারাই এই ধরনের কার্যক্রম এখন করলো। তারাই আগের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুজন দায়িত্বশীলকে তাদের সরকার মন্ত্রী হিসেবে নিলো। আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, এটা বোঝা যায়, তারা এই নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ডকে আসলে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সুবিধা পাওয়ার জন্য এই মানুষগুলো যাদেরকে তারা এখন পুরস্কৃত করে তাদেরকে ব্যবহার করেছে। এই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কথা বলছিলাম। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ন্যারেটিভ তখন আমাদের পক্ষে উৎপাদিত হতো। ডিপ স্টেট এজেন্সি যদি সঙ্গে থাকতো তাহলে তো সবাই বলতে পারতো, সংবিধান অনুযায়ী ২৯ সালে নির্বাচন হওয়া উচিত। তাহলে সরকার থাকতো ২৯ সাল পর্যন্ত। তা আমরা সমঝোতা করিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেকেই সরকার গঠন করেছে, তাদের অনেক মহাপরাক্রমশালী ছিল, অনেক শক্তিশালী ছিল। কিন্তু তারা যখনই গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর সব গণহত্যার বিচার বাংলাদেশে হবে। তবে, সেটা যথাযথ প্রক্রিয়ায় করার ক্ষেত্রে আমরা বদ্ধপরিকর ছিলাম। আমরা আজকেও দাঁড়িয়ে বিচার চাইছি এবং বিচার আদায় করার জন্য আমরা কাজ করবো। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখন ৭০-এর নির্বাচনে গণরায় একদিকে আসে এবং তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয় না। পরবর্তীতে ৭১-এ স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে ৯০-এ একই পরিস্থিতি হয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে। ১৭ বছরের নিষ্পেষণের পর মানুষ যখন তাদের কথা বলতে পারছিল না, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে যখন বারবার সরকার গঠন করে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদেরকেও কিন্তু পদদলিত করা হয়েছে। সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, এবারও গণরায়কে, যে গণভোটের রায়কে, জুলাই সনদকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। গণরায়কে এক ধরনের ভূলুণ্ঠিত করে এই সরকার সামনের দিকে এগিয়ে চলতে চাইছে।বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু তাদেরকেও এই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ভূলুণ্ঠিত করতে দ্বিধা করবে না। আসিফ মাহমুদ বলেন, এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার এবং যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদের পরিবারেরা দেখেছে, যে বাবা-মায়েরা দেখেছে, আমাদের সহযোদ্ধারা দেখেছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। এই জনরায় বাস্তবায়ন করা না হলে বাংলাদেশের যে ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে, তারা কিন্তু রাজপথে নামতেও দ্বিতীয়বার ভাববে না। সুতরাং আপনারা জনগণের পক্ষে আসুন, যাতে আমরা একসঙ্গে মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারি। যদি জনগণের বিপক্ষে যান, তাহলে আমাদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্যই আবারও মাঠে নামতে হতে পারে।






















































Discussion about this post