ঢাকা : ১৯৯০ সালে সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে যে গণতান্ত্রিক যাত্রার শুরু হয়েছিল, তা গত সাড়ে তিন দশকে পার করেছে নানা চড়াই-উতরাই। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে মোট সাতটি উল্লেখযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। তিন দশকের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: ১৯৯১: সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর এটিই প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন যেখানে সবগুলো রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এই নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে। ১৯৯৬: বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যুক্ত করার পর এটিই প্রথম নির্বাচন। নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ই জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একই বছরের ১৫ই ফেব্রুয়ারি একটি বিতর্কিত নির্বাচন করেছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি। আন্দোলনের মুখে ওই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাশ করে সংসদ বিলুপ্ত করে দেয়া হয়। ২০০১: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্বিতীয় নির্বাচন। বিএনপির নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোট নির্বাচনে জয়লাভ করে। দ্বিতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। ২০০৮: সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর ক্ষমতায় থাকার পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করেছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেটিকে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বলা হয়। সেসময় বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০১৪: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর ব্যাপক আন্দোলনের মুখে এই নির্বাচন আয়োজন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। নির্বাচনটি বর্জন করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অধিকাংশ বিরোধী দল। দেড়শর বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। ২০১৮: আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। তবে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে নির্বাচনটি বিতর্কিত হয়ে পড়ে এবং আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) জয়লাভ করে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরবর্তীতে নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে পরিচিত হয়। ২০২৪: আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) টানা ১৬ বছরের শাসনামলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় এবং সর্বশেষ নির্বাচন। বিএনপি এই নির্বাচনটি বর্জন করে এবং একতরফা নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবারো বিজয়ী হয়। ওই বছরেই ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট এক গণঅভ্যুত্থানে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই নির্বাচনগুলো কখনো আশার আলো দেখিয়েছে, আবার কখনো জন্ম দিয়েছে চরম অস্থিরতা ও দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনের।
























































Discussion about this post