ঢাকা: চলতি বছর হামের রোগী বেড়েছে ৭৫ গুণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৭৬ শিশুর শরীরে। গত বছর এই সময়ে হাম আক্রান্ত রোগী ছিল ৯ জন। এর আগে ২০২৪ সালের এই সময়ে আক্রান্ত রোগী ছিল ৬৪ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম তিন মাসে রোগী বেড়েছে ৭৫ গুণ। তবে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা ছয়টি মূল কারণকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, সময়মতো রোগ শনাক্ত না হওয়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট, অর্থায়ন সংকটে সেক্টর কর্মসূচি স্থগিত, ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক বিতরণ না হওয়া এবং প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থাকা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এসব কারণ মিলিত হওয়ায় সংক্রমণ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তারা দ্রুত গণটিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের পৃথক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। একটি সুস্থ–সবল প্রজন্ম গড়তে শিশুদের সময়মতো টিকাদান বা ইপিআই কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পর থেকে নির্দিষ্ট বয়সে সঠিক টিকা শিশুকে ভয়াবহ সব সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে। টিকাদানের সময়সূচি বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী, জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়সের মধ্যে শিশুকে মোট ১০টি রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা দেওয়া হয়। ১. জন্মের পরপরই যক্ষ্মা প্রতিরোধে বিসিজি টিকা দেওয়া হয়। ২. ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে, পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা (ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টঙ্কার, হুপিং কাশি, হেপাটাইটিস বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি) এবং ওপিভি (পোলিও) ও পিসিভি (নিউমোনিয়া) দেওয়া হয়। ৩. ৬ ও ১৪ সপ্তাহ বয়সে ইনজেকটেবল পোলিও (এফআইপিভি) দেওয়া হয়। ৯ ও ১৫ মাসে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে দুই ডোজ এমআর টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া, টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধের জন্য ৯ মাস বয়সে এক ডোজ টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হয়। জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা দেওয়া হয়। মূলত পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা ১০–১৪ বছর বয়সী কন্যাশিশুদের জন্য এই টিকা রয়েছে। বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসারের মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। সময়মতো এই টিকা নেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় শতভাগ কমানো সম্ভব। প্রজননযোগ্য বয়সী নারীদের (১৫–৪৯ বছর) ধনুষ্টঙ্কার বা টিটেনাস থেকে সুরক্ষার জন্য ৫ ডোজ টিকা দেওয়া হয়। এটি মা ও ভবিষ্যৎ সন্তানের দু’জনকেই প্রাণঘাতী ধনুষ্টঙ্কার থেকে রক্ষা করে। ডোজ মিস হলে করণীয় ও ঝুঁকি যদি কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে টিকা নেওয়া না হয়, তবে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। দ্রুত কাছের টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। ডোজ মিস করলে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ গড়ে উঠতে পারে না এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। মনে রাখতে হবে, দেরি হলেও টিকা নেওয়া না নেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তা কিছু টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে কমতে পারে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য বুস্টার ডোজ নেওয়া প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, ধনুষ্টঙ্কার বা ডিপথেরিয়ার ক্ষেত্রে বুস্টার ডোজ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করে।























































Discussion about this post