ঢাকা: নানা আলোচনা-সমালোচনা, বিক্ষোভ এবং অনাস্থার মুখে অবশেষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মাহবুব মোর্শেদ। গত কয়েক দিন আগে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাংবাদিক-কর্মচারী সম্মিলিত বিক্ষোভের মুখে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অফিস থেকে বেরিয়ে গিয়ে আর বাসস কার্যালয়ে ফিরে যাননি তিনি। সংশ্লিষ্ট একটি জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। বাসসের ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, এমডি ও প্রধান সম্পাদকের জায়গায় এখন আর মাহবুব মোর্শেদের নাম নেই। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব মোর্শেদকে দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিল সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। এখন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন তিনি। সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের যত নিয়োগ ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে অযোগ্য ছিল মাহবুব মোর্শেদ। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ে দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো সহযোগিতাই পাইনি। একবার তো গুমের রিপোর্টই সে গুম করে দিয়েছে। যে রিপোর্টার এই রিপোর্ট করেছে, তাকে অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।’ আজাদ মজুমদার আরও লেখেন, ‘মাহবুব মোর্শেদকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বহুবার আলোচনা হয়েছে। শুধুমাত্র একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রিয়পাত্র হওয়ায়- তা সম্ভব হয়নি। তার নিয়োগটি বাতিলযোগ্য ছিল। তাকে বিদায় করার জন্য গা-জোয়ারির (বলপ্রয়োগ) বিষয়টি সমর্থনযোগ্য নয়।’ সম্প্রতি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি গঠিত এ কমিটিকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (গ্রেড-১) কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য সদস্যগণ হলেন- প্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর; মহাপরিচালক, গণযোগাযোগ অধিদফতর এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রেস-১) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে রাজধানীর পল্টনে বাসসের কার্যালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংবাদ সংস্থার এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক-কর্মচারীদের একটি অংশ কার্যালয়ে তাকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। বিক্ষোভের মুখে মাহবুব মোর্শেদ অফিস ছেড়ে চলে যান। পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মাহবুব মোর্শেদ। সেখানে তিনি ‘মব তৈরি করে’ তাকে ‘অপসারণের’ জন্য চাপ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।






















































Discussion about this post