আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েল তেহরানে রোববার আবারও নতুন করে বিমান হামলা চালায় এবং তার জবাবে ইরান আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একদিন আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতি গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। ডেইলি মেইলকে দেওয়া রোববার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আগামী চার সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা আঘাতে বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল, বিমান পরিবহন ও তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই হামলার উদ্দেশ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হুমকি দূর করা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমাদের সব লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত’ সামরিক অভিযান চলবে। তিনি দাবি করেন, হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নৌবাহিনীর নয়টি জাহাজ ও একটি নৌ স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি ইরানের সামরিক ও পুলিশ বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান এবং প্রতিরোধ করলে ‘নিশ্চিত মৃত্যু’র হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে ইরানের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আহ্বান জানান। রোববার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়, যেখানে তিনজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেখানে দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়—তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উপসাগরীয় শহর দুবাই, আবুধাবি ও দোহায়ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানের আকাশসীমায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে এবং রাজধানীর গোয়েন্দা, নিরাপত্তা ও সামরিক কমান্ড কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের লক্ষ্য ইরানের সরকারকে দুর্বল করে পতনের দিকে ঠেলে দেওয়া। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মার্কিন ও ব্রিটিশ তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে এবং কুয়েত ও বাহরাইনে সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান জানান, তিনি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের এক সদস্য নিয়ে গঠিত একটি নেতৃত্ব পরিষদ সাময়িকভাবে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির পুতিন খামেনির মৃত্যুকে ‘নির্দয় হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যা দেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একে ‘স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইসরায়েল দাবি করেছে, তেহরানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কমপ্লেক্সে অবস্থানকালে খামেনিকে তারা হত্যা করেছে। হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য বড় আঘাত হলেও এর ফলে দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয়ে যাবে—এমনটি নিশ্চিত নয়।






















































Discussion about this post