আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা সিটিতে হামলার আগে সেখানে থাকা ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণে সরিয়ে নিতে চাপ বাড়াতে মানবিক সহায়তা ফেলা বন্ধের পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর খবর বরাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আনাদোলু এজেন্সি।প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যে হলো—গাজা সিটির ৮ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে দ্রুত এলাকা ছাড়ার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া। একজন ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, দক্ষিণের অবকাঠামো এখন বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।প্রত্যাশিতভাবে আগামী ১০ দিনের মধ্যেই সেনাবাহিনী সরাসরি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।এই পদক্ষেপ আসে এমন এক সময়, যখন ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সাম্প্রতিক ‘কৌশলগত বিরতি’ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। এই বিরতির ফলে গত এক মাস ধরে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ ছিল।তবে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে দেওয়া এই বিরতি এখন প্রায় বাতিল। ‘কান’ জানায়, শুধু মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় এবং দক্ষিণের আল-মাওয়াসি অঞ্চলে আংশিক বিরতি বজায় থাকবে—যেখানে ইসরায়েল চায় বেসামরিক লোকেরা সমবেত হোক।এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা সিটিকে ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে। গাজা সিটির জনসংখ্যা প্রায় ১২ লাখ, যা পুরো উপত্যকার প্রায় অর্ধেক।২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এই সামরিক অভিযানে গাজার অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং অঞ্চলটি চরম দুর্ভিক্ষের মুখে।গত নভেম্বরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।এছাড়া গাজার ওপর ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) একটি গণহত্যা মামলা এখনও চলমান রয়েছে।
Discussion about this post