ডেস্ক রিপোর্ট: ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে অর্থনৈতিক কূটনীতি সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ‘প্রথম অর্থনৈতিক কূটনীতি’ সপ্তাহ পালনের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস ‘ম্যাপিং এক্সারসাইজ: বাংলাদেশ-ইতালি ঢ্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অপোরচুনিটিস’ র্শীষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভাটি রোমের স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। ইতালি, মন্টেনিগ্রো ও সার্বিয়াতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান স্বাগত বক্তব্য দেন। বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি। মো. শামীম আহসান বলেন, বঙ্গবন্ধু ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী গত ২৫ জুন সর্ম্পূণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন। এই সংবাদ উপস্থিত সবাইকে জানানো হয়। দূতাবাস আয়োজিত এ অনুষ্ঠান ইতালি ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে দু’দেশের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে এবং সম্ভাবনাসমূহ কাজে লাগিয়ে দু’দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গতিশীলতা আনয়নে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তীর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি আশাবাদী যে ইতালির বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে অধিকতর বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণলায়ের সচিব (পশ্চিম) রাষ্ট্রদূত সাব্বির আহমেদ চৌধুরী অর্থনৈতিক মুক্তিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মুল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি তাঁর বক্তব্যে ফুড প্রসেসিং, কৃষি, প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র বের করে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আহবান জানান। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি, দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান জিয়ানপাওলো নেরি বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সর্ম্পক দৃঢ়তর করতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) র্নিবাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন ক্ষেত্র, সম্ভাবনা ও সুযোগ সুবিধা গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে দু’দেশের মধ্যে একটি “বিজনেস কাউন্সিল” গঠনের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন ইতালির বিনিয়োগকারি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তারা বাংলাদেশ বিনিয়োগ এবং দুই দেশের র্অথনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে একযোগে কাজ করবেন বলে জানান। টেক্সটাইল, চামড়া শিল্প, নবায়নযোগ্য শক্তি, কৃষি এবং ফুড প্রসেসিং, ফুড রিটেলিং এবং বেকারি, আইসিটি, সিরামিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাট এবং পাটজাত পণ্য, সোলার মডিউল, সুনীল অর্থনীতি, রোবোটিকস, স্বাস্থ্য সেবা খাতের যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ইত্যাদি খাতসমূহকে দু’দেশের সহযোগিতার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিভাগের মহাপরিচালক, ইপিবির মহাপরিচালক, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বেসিস, এলএফএমইএবি, এপেক্স ফুটওয়্যার এর প্রেসিডেন্ট এবং ওয়াল্টন, ই-ক্যাব এর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ইতালির পক্ষে নিউ দিল্লিতে অবস্থিত ইতালির দূতাবাসের ট্রেড কমিশনার, ইটা, কনফিন্ডাস্ট্রিয়াল, এআইসিই, রিফলাইন, এনি মাগালদি পাওয়ার, ডিএম ইটালিয়া এর প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন। নেপোলি ও ফ্লোরেন্স এ বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেলগণও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। দুই দেশের বিনিয়োগকারি ও ব্যবসায়ীরা তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা আলোচনায় তুলে ধরেন যা একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। ইতালির পক্ষে এনি, লিওর্নাদো, মাগালধি পাওয়ার, রিফলাইন, ব্রাচি, ইডিওজি,ডিএম ইটালিয়া এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিজিএমইএ, এপেক্স, ওয়ালটন এর প্রতিনিধিরা তাদের আশাবাদ এবং নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। হাইব্রিড ফরমেটে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সবাই একমত হন, এটি দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটর্ফম হিসেবে কাজ করবে। ইতালি-বাংলাদেশ এর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২.২ বিলিয়ন র্মাকিন ডলার এবং ইতালি বাংলাদেশের ষষ্ঠ বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। বাংলাদেশ দূতাবাস সরকারের অনুসৃত “অর্থনৈতিক কূটনীতি”র ধারাবাহিকতায় সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।–বাসস।
Discussion about this post