বিনোদন ডেস্ক: স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর আত্মগোপনে থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী এবার তাকে ঘিরে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব দাবি করেন তিনি। এটিকে নিজের ‘শেষ পোস্ট’ উল্লেখ করে সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং স্ত্রীর অতীত নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা। পাঠকের জন্য হুবহু স্ট্যাটাসটি প্রকাশ করা হলে। “এটাই হয়তো আমার শেষ পোস্ট । একটু সময় নিয়ে পড়বেন । আইনের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি , সুষ্ঠু বিচারে আইন আমার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিবে আমি মাথাপেতে নিব। কিন্তু আমার এই পোস্টে আমি কিছু ইনফরমেশন রেখে যেতে চাই, যেন আমার কিছু হলে , অথবা আমাকে অন্যায়ভাবে ফাসানো হলে সাধারন জনগন ও সাংবাদিক ভাই বোনেরা এই বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক থাকেন এবং আইনের কাছে খতিয়ে দেখার দাবি রাখতে পারে । ১.আমার বাসায় ড্রইং কাম ডাইনিং এ একটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। যার এক্সেস কখনোই আমার কাছে ছিলোনা। ইকরার ফোনএ ছিলো। ইকরার ফোন পুলিশি হেফাজতে আছে এবং এই মূহুর্তে তা ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। অনেকেই বলবেন, আমার বাসার সিসিটিভির এক্সেস আমার কাছে ছিলোনা এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, তাদেরকে বলবো সিসিটিভির সাথে লিংকড ডিভাইস লিস্ট চেক করলে সেটি অনায়সে বেরিয়ে আসবে। আমি সারাদিন শুটিং এ থাকার কারনে আমি কখনো এর এক্সেস ইকরার কাছেও চাইনি। ইকরা এই ক্যামেরা দিয়ে বাসার কাজের লোক ও বাসায় থাকা আমার সহকারীর গতিবিধী লক্ষ করতো প্রয়োজনমত। এই সিসিটিভি ফুটেজ দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় আলামত। শুধু দুর্ঘটনার সময় নাহ, আমি নেপাল আসারদিন থেকে রয়েছে এই ক্যামেরায় গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ । আবারো বলছি ইকরার মোবাইল( যার পাসওয়ার্ড আমি জানিনা) ও সিসিটিভি ক্যামেরার মেমরি কার্ড দুটোই পুলিশের হেফাজতে । ২. এখন বলবো, কেন সিসিটিভির ফুটেজ সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আমি নেপালের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই ২৫ তারিখ দুপুরে। ২৫ তারিখ, ২৬ তারিখ ও সর্বশেষ ২৭ তারিখ এই ৩ দিনই সন্ধ্যার পর আমার বাসায় ইকরার বান্ধবী ও বন্ধুর আগমনছিলো। যার গতিবিধি সিসিটিভিতে আছে । ২৫/২৬ শুধু বান্ধবী এবং ২৭ তারিখ ২ জন বান্ধবী ও ১ জন ছেলে বন্ধু বাসায় এসেছে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলো। এসময় গুলোতে ৩ দিনই তারা সিগারেট/গা*জা ও মদ্যপান করেছে। দুর্ঘটনার আগেরদিন ২৭ তারিখ ইকরা আমার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ঔষধও আনিয়েছে ঐ সময়ে যা সিসিটিভির নিচেই ইকরাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এই সমগ্র ভাষ্য আমার সহকারীর এবং তা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে স্টেটমেন্ট আকারে পেশ আছে । সাংবাদিক ভাই ও সাধারন সবাইকে জানিয়ে রাখলাম বিষয়টি যেন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে এই ৩ দিনের ফুটেজ কোনভাবেই সরানো না হয়, আর সরানো হলেও যেন এর সুষ্ঠু জবাবদিহি বা তদন্ত করা হয়। এই ৩ দিন ও দুর্ঘটানার মুহুর্তের ইকরার কথা বার্তা কোনভাবেই সাধারন মানুষের মত ছিলোনা ।ইকরা এর আগেও ১৫ বছরে একাধিক বার আত্নহত্যার চেষ্টা করলেও কখনো সিরিয়াসলি কোন সংযোগ পাওয়া যায়নি। কিন্তু এইবার ইকরা একদমই নরমাল ছিলো নাহ। ৩. ইকরার মোবাইল পুলিশের থ্রুতে ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট চলে আসবে কে ইকরার একাউন্ট ডিসেবল করেছে। এবং এটিও জানার প্রয়োজন আছে কেন করেছে । আমার সাথে ইকরার কনভার্সেশনের একটি দাড়ি কমাও পরিবর্তিত হয়নি সেটি আমার ফোন ফরেনসিকে নিলে প্রমাণ মিলবে। যেটা আমি সেচ্ছায় পুলিশের কাছে দিবো। সবাইকে এই দিকটাও লক্ষ রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে যেন ইকরার ফোনথেকেও কোন কনভার্সেশন ডিলিট না হয়। যেমন ম্যাসেন্জার, whatsapp বা অন্যান্য অ্যাপ যেগুলো আছে।এমন কি ফোনের ইনকামিং ও আউটগোয়িং কল লিস্ট এবং ২৫/২৬/২৭ তারিখ রাতে ওর বন্ধুদের সাথে বাসায় আসা এবং চিল করা নিয়ে কনভার্সেশন । ৪. এবার আসেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে কিছু কথা । আগের রাতে মদ্যপান ও ড্রাগ্স সেবন করা হলে অবশ্যই সেটি পোস্টমর্টেম রিপোর্টে সেটি আসবে। সো, কোনভাবেই এই রিপোর্ট যেন পরিবর্তন না হয় সেদিকেও একটু নজর রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে । কারন পোস্টমর্টেম করার আগে পোস্টমর্টেম বাধা দেওয়া হচ্ছিল। না চাইতেও নিম্নেকিছু সংবেদনশীল হিন্টস রেখে যাচ্ছি যেগুলো আপনাদের সামনে এই মানুষটিকে নিয়ে বিস্তারিত বলতে আমার জন্য কষ্টদায় । আফটারঅল ইকরা আমার স্ত্রী আপনাদের মতে আমার না হয় তিথীর সাথে পরকিয়া , তাহলে ইকরার ব্যাচমেট জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি, ফিলোসফি ডিপার্টমেন্টের ৪১ তম ব্যাচের ‘নাবিদ’ এর সাথে ইকরার কি! ২০১০ এ পালিয়ে বিয়ে করে দুই পরিবারের কাছে ধরা খাওয়ার পর ,ইকরা আমার বিবাহিত স্ত্রী থাকার পরেও ইকরার পরিবার ইকরাকে ইকরার সম্মতিতে আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়। হ্যাঁ, আমার স্ত্রী থাকা অবস্থায় ইকরা আরেকটি বিয়ে করে, বাসর করে। আমাকে ডিভোর্স না দিয়ে তার পরিবারের সম্মতিতে । তবে ভুল বুঝতে পেরে যখন ইকরা আমার কাছে ফিরে আসতে সিদ্ধান্ত নেয় , আমি তাকে মাফ করে বুকে পাথর রেখে মেনে নিই। একজন স্বামী হয়ে এই সিচুয়েশন বয়ে বেড়ানো খুব একটা সুখের না আবশ্যই । উপরের কোন কিছুই এটা প্রমান করেনা যে, ইকরা আমাকে ভালবাসতো নাহ। ইকরা আমাকে ভয়ংকর ভালবাসতো। আমিও বাসতাম। ত্যাগ ওর যেমন ছিলো , আমারও ছিলো। যুদ্ধ দুজনেরই করতে হয়েছে। ভুল ত্রুটি, ঝগড়া , কলহ আর সব সংসারের স্বামী স্ত্রীর মতো আমাদেরও ছিলো। কিন্তু সময়ের কালক্রমে ভালবাসাটা মায়ায় রূপ নেয়। মায়া, অভ্যস্ততা ও সন্তানের সেতুবন্ধন সবকিছুকে ছাপিয়ে ভালোবাসার জায়গাটায় আসন গেড়ে বসেছিল। উপরের মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধ পরায়নতা ও আমার স্বকর্মসংস্থানের মানুষদের বেইমানি হয়তো আমাকে দমিয়ে দিবে, হয়তো বাচতে দিবেনা । ১ জন মানুষও যদি বিবেচনার দুয়ার খুলে লেখাগুলো পড়ে থাকে লেখাগুলো , প্লিজ তথ্য -প্রমাণ মিলিয়ে নিয়েন। মুছে যেতে দিয়েন না। আমার সন্তান এর জন্য হলেও। কারণ আমার জায়গা আমার সন্তানের জীবনে কেউ পুরনো করতে পারবেনা। এটা বাস্তব। আমাদের দুজনের দুজনকে দরকার। আপনারা পারলে আমাকে মাফ করে দিয়েন। জানিয়ে রাখা ভালো, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টায় গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা অভিনেতা আলভীর স্ত্রী ইকরাকে উদ্ধার করেন। এরপর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে ইতোমধ্যে রাজধানীর পল্লবী থানায় জাহের আলভী, তার মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে অভিনেতা জাহের আলভীকে। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে স্ত্রী ইকরাকে বিয়ে করেন আলভী। তাদের রিজিক নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।





















































Discussion about this post