ঢাকা: তরুণ‌দের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই উন্নত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সরকারের নীতি নির্ধারকদের নিয়ে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক অনলাইন আলোচনায় এমন মত দেন বক্তারা।অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এবং ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন-ডিওয়াইডিএফ যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। ওয়েবিনার আলোচনায় সংসদ সদস্য, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নীতি নির্ধারক, যুব প্রতিনিধি ও দেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণরা আলোচনায় অংশ নেন। যুব উন্নয়নের বক্তারা বলেন, সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোতে এবং দেশের  উন্নয়নে যুব শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। যে কোনো উন্নয়ন কাজে যুবদের দায়িত্ব দিলে ও সঠিকভাবে সেই দায়িত্ব তারা পালন করলে দেশ দ্রুতই অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে যাবে। ‘ডায়লগ উইথ পলিসিমেকারস- রিপ্রেজেনটেশন অব ইয়াং পিপল ইন ডিসিশন মেকিং স্ট্রাকচার’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় অতিথি আলোচক হিসেবে অংশ নেন সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, যুবদের নিয়ে কোনো ডাটাবেজ নাই। ডাটাবেজ করতে পারলে, কাজ আরও সহজ হবে। এ আলোচনা আসা সুপারিশগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজ এগিয়ে আসলে দেশ দ্রুতই এগিয়ে যাবে, এ জন্য তরুণদের অংশগ্রহণ করা জরুরি। যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল করিম এনডিসি বলেন, সরকার কর্তৃক ঘোষিত তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে তরুণদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ঋণ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু এই অর্থ যাদের প্রয়োজন এমন তরুণদের কাছে কমই পৌঁছাচ্ছে। পাশাপাশি যুবদের দেওয়া প্রশিক্ষণগুলোতে এখনও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। তিনি আরও বলেন, তরুণদের চাকরির পিছে ছোঁটা বন্ধ করে ভিশনারি হতে হবে। এসএমই ফাউন্ডেশনের আবু মঞ্জুর সাইফ বলেন, যুব উন্নয়নে তাদের নেওয়া উদ্যোগে সহজে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ ও অর্থ সহায়তা নিশ্চিত করতে পারলে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে। চাকরি করার ভাবনা থেকে বেরিয়ে মেধা ও শিক্ষাকে উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, দাবি আদায়ে তরুণদের আরও সচেষ্ট হতে হবে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পিছিয়ে পরাদের জন্য আলাদাভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। দেশ ও সমাজের উন্নয়নে তরুণদের দায়িত্বশীল হতে হবে। মাদক ও সন্ত্রাস থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশিক্ষণ আব্দুল লতিফ মোল্লা  বলেন, তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানো হচ্ছে। তরুণরা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে খুব অল্প খরচে ট্রেনিং নিতে পারেন। আগামী দিনগুলোতে তরুণদেরও জন্য আরও প্রোজেক্ট প্রয়োজন রয়েছে এবং মনিটরিং বাড়াতে হবে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম বলেন, যুব উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর তরুণদের কাজগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে। ভালো কাজকে সহযোগিতা করতে হবে, শুধু ট্রেনিং দিলেই হবে না ট্রেনিং শেষে কাজ পেতে সহযোগিতা করতে হবে। একশনএইড বাংলাদেশের যুব প্রকল্প বিষয়ক ব্যস্থাপক নাজমুল আহসান বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে কিন্তু যুবদের নিয়ে নীতি পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রগুলোতে অংশগ্রহণ হচ্ছে না। প্রান্তিক পর্যায়ের যুবদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের যুবদের কথা শুনতে হবে তাদের কথার মূল্যায়ন করতে হবে। অনলাইন আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন, ডিওয়াইডিএফ এর নির্বাহী পরিচালক অমিয় প্রাপন চক্রবর্তী অর্ক।  আলোচনায় অংশ নিয়ে তরুণ প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওয়েবিনারে অংশ নেয়া যুবরা বলেন, যুব উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ রাখার মাধ্যমে যেমন কাজের সুযোগ করে দিতে হবে। তার বেকার যুবদের জন্য বেকার ভাতা প্রদান করতে হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে (সম্ভব না হলে ভর্তুকি মূলে) কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেট সেবা প্রদান করলে তরুণদের উন্নয়ন হবে। শারীরিক প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, তৃতীয় লিঙ্গ এবং অন্যান্য প্রান্তিক তরুণদের কর্মসংস্থানর ব্যবস্থা করতে হবে। যুবদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যেতে হবে। যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ প্রক্রিয়াকে সহজ করা, ঋণের শর্ত শিথিল করে অর্থ প্রদান করতে হবে। কৃষি খাতে যুব উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কৃষি মন্ত্রণালয় আরও সচেষ্ট হতে হবে। জাতীয় যুব কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা মাধ্যমে যুব ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সব যুবাদের সহযোগিতা করতে হবে। যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রণালয় আলাদা করাটা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। আলাদা হলে জাতীয় যুব নীতি ২০১৭ বাস্তবায়নও সহজ হবে।