শুক্রবার, ২২ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭, ১১:১৪:৪৫

মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এক ডজন নেতা

মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এক ডজন নেতা

পাবনা: সুজানগর ও বেড়া উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত পাবনা-২ আসনে ভোটার রয়েছে দুই লাখ ৩৫ হাজার। ১৯৯১ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের আহম্মদ তফিজ উদ্দিনকে হারিয়ে জয় পান বিএনপির প্রার্থী ওসমান গণি খান। পরের বার ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৫শ’ ভোটের ব্যবধানে নৌকার তফিজ উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন ধানের শীষের ওসমান গণি। ২০০১ সালে দুই দলেরই প্রার্থী পরিবর্তন হয়। সেবার আওয়ামী লীগের মির্জা আবদুল জলিলকে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। ২০০৮ সালে নৌকার নতুন প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারের কাছে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হেরে যায় সেলিম রেজা হাবিব। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যও হন। পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্মকাণ্ড নিয়ে এ কে খন্দকারের ওপর ক্ষুব্ধ হয় আওয়ামী লীগ। আর তিনিও রাজনীতি  থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। ফলে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আজিজুল হক আরজু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এই আসনে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক পরিবর্তনের আশায় এবারো মাঠে নেমেছে একাধিক নেতা। তবে এবারো প্রার্থী হতে চান এমপি আজিজুল হক আরজু। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজ দলের নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ একেবারেই কম। তিনি ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন না। তার কাছের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের প্রাধান্য দেন। এছাড়াও তিনি এলাকাতে কম থাকেন। সব মিলিয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা তার উপর ক্ষুব্ধ। এছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রাকসুর সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির রানা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. সাঈদুর রহমান, কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ড. মির্জা আবদুল জলিল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবীর ও সাবেক সচিব ড. মজিবুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। 
অপরদিকে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মাঠে নেমেছে বিএনপির একাধিক নেতা। প্রার্থী হতে গণসংযোগ চালাচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর (অব.) কে এস মাহমুদ, সাবেক এমপি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান জাফির তুহিন। সুজানগর থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসলাম হোসেন মণ্ডল। তবে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন হাবিব ও মো. আসলাম হোসেন মণ্ডল। এলাকায় দুই নেতারই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই দুই নেতার মধ্যেই কেউ প্রার্থী হবেন এমনটা ধারণা স্থানীয় নেতাকর্মীদের। এছাড়া জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি মকবুল হোসেন সন্টু মনোনয়ন চাইতে পারেন। 
বর্তমান সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজু বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বড় দলে সামান্য মতবিরোধ তো থাকবেই। তবে নেতাকর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয়, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক কাজ করেছি। আমি এমপি হিসেবে নয়, একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে দলের জন্য আজীবন কাজ করে যাবো। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার জয়ের লক্ষ্যে সব সময় মাঠে থাকবো। 
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে এলাকায় কোনো উন্নয়ন হয়নি। সরকারী অর্থ লুটপাট করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। অনির্বাচিত এমপি জনগণের কোনো খোঁজ খবর নেন না। এলাকার সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। আমাদের দাবি সহায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন হলে অবশ্যই এখানে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই মনোনয়ন চাইবে, আমিও প্রত্যাশী, তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার পক্ষে কাজ করবো আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য। 



আজকের প্রশ্ন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন,মাদক সম্রাটতো সংসদেই আছে। তাদেরকে বিচারের মাধ্যমে আগে ফাঁসিতে ঝুলান। আপনি কি একমত?