শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, ০৪:২১:৩৫

নভেম্বরে চলবে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান

নভেম্বরে চলবে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান

ঢাকা : মাত্র ৮ দিনে বিএনপির দেড় হাজার নেতাকর্মীর বিরম্নদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে বিশেষ উদ্দেশ্যে এজাহারে এদের সিংহভাগই অজ্ঞাত পরিচয় উল্লেখ করেছে পুলিশ। আগামীতে কোনো আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে মামলা রুজুর ক্ষেত্রে তা আরও জোরেশোরে কাজে লাগানো হবে

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক নানা কর্মসূচির উত্তাপ যাতে রাজপথ ছাপিয়ে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সে লক্ষ্যে আগেভাগেই মামলার ফাঁদ পাতছে পুলিশ। পাশাপাশি আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশব্যাপী পলিটিক্যাল ক্যাডারদের ধরপাকড় অভিযান জোরদার করার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে বিগত সময়ের বিভিন্ন নাশকতার মামলা রয়েছে তাদের দ্রুত আইনের হাতে সোপর্দ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

 

এছাড়াও আন্দোলনের নামে সরকারি কাজে বাধা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা পুরনো মামলার আসামিরা যাতে জামিনে থেকে নতুন করে কোনো অপরাধে যুক্ত হতে না পারে এজন্য পুলিশকে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

বিষয়টি স্বীকার করে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতেই আগাম এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দলকেই কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারাও কোনো অপতৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব কিংবা বিশেষ কোনো দলকে ছাড় দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও দাবি করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা।

 

তবে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, এটি ক্ষমতাসীন সরকারের পুরনো ফাঁদ। যা ফের পুলিশকে দিয়ে নতুন করে পাতানো হয়েছে। এসব ‘অপতৎপরতার’ মধ্য দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে মূলত ফাঁকা মাঠে গোলা দেয়ার ছক তৈরি করা হচ্ছে। যা এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তবে এসব অপকৌশল এবার ততটা কাজে লাগবে না বলে দাবি করেন সরকার বিরোধী নেতারা।

 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিরোধী দলকে দমনের হীন চক্রান্তের অংশ হিসেবে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক মামলা দেয়া হচ্ছে। আর সরকারের এসব অনৈতিক, অমানবিক ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর লক্ষ্যেই সরকারদলীয় লোকদের দিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সাজিয়েছে। জোরজবরদস্তির মাধ্যমে অর্জিত ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এখন জনগণের ভয়ে ভীত বলেই সরকার রাষ্ট্রশক্তিকে এমন নির্মমভাবে ব্যবহার শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ঢালাওভাবে রাজনৈতিক মামলা করার কথা অস্বীকার করলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাত্র ৮ দিনে বিএনপির প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যার অধিকাংশই দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ বাদী হয়ে দায়ের করেছে।

 

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাবিরোধী মিছিলকে কেন্দ্র করে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ৩০৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। এতে ৫৬ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। বাকি ২৫০ জন অজ্ঞাত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে এ মামলা করে পুলিশ।

 

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় বিএনপির ১৮৯ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা করে পুলিশ। এতে কালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান মিলুসহ ৩৯ জনের জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাকিরা বিএনপির অজ্ঞাত পরিচয় নেতাকর্মী। মামলায় বলা হয়, বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতার জন্য পাঁচটি হাতবোমা জড়ো করেছিল। যা খবর পেয়ে ছোট কালিয়া মোড় থেকে পুলিশ উদ্ধার করে।

 

একই দিন বরিশালে সরকারি কাজে বাধা, মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোসহ বেশকিছু অভিযোগে বিএনপির ২৯ নেতাকর্মীকে আসামি করে অজ্ঞাত ৮০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। ওইদিনই মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া বিক্ষোভ মিছিল করায় বিএনপি-জামায়াতের ১৮ নেতাকর্মীর বিরম্নদ্ধে বিশেষ আইনে মামলা করে পুলিশ।

 

১৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে চাঁদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ দেড়শ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, ভাংচুর ও সরকারি কাজে বাধা দওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

 

১২ অক্টোবর নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানায় বিএনপির ১১৪ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভাংচুর, সরকারি কাজে বাধা, বিস্ফোরক ও নাশকতার অভিযোগ এনে মামলা করেন উপ-পরিদর্শক নেপাল কুমার। এতে জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলোকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। একইদিন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি পালন শেষে ফের পথে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ আটক ১২ নেতাকর্মীর বিরম্নদ্ধে মামলা করে পুলিশ। তাদের বিরম্নদ্ধে বিনা অনুমতিতে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে সংঘর্ষের আশঙ্কা এবং জনমনে ভীতি সৃষ্টির করার অভিযোগ আনা হয়। ওইদিন ধামরাই থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে ৪৫ জনের নামসহ ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বিএনপির ৬০ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা করে পুলিশ।

 

গত ১১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ এনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও গত এক সপ্তাহে বিএনপি-জামায়াতের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, বিস্ফোরকদ্রব্য আইন ও নাশকতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পুলিশের মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলেই তারা তা মামলা রুজুর কাজে লাগাবে। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় নেতাদেরও আসামি করা হবে।

 

এদিকে রাজনৈতিক এসব মামলায় বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাত আসামি রাখার পেছনেও বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের পরিদর্শক মর্যাদার একজন কর্মকর্তা বলেন, সবার নাম এজাহারভুক্ত করা হলে পরে ওই মামলায় অন্য কাউকে অভিযুক্ত করা কঠিন। অথচ কিছু আসামির নাম অজ্ঞাত রাখা হলে পরে যে কাউকে এ মামলার চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

 

অন্যদিকে পুলিশের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, সময়-সুযোগ বুঝে পলিটিক্যাল ক্যাডারদের বিভিন্ন মামলার জালে জড়ানো হলেও তাদের গ্রেপ্তারে এখনই ততটা জোরদার অভিযান চালানো হবে না। বরং তাদের ধাওয়ার উপর রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে সরিয়ে রাখার টার্গেট নেয়া হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার পর তাদের ধরতে দেশব্যাপী সাড়াশি অভিযান চালাবে পুলিশ। যায়যায়দিন



 

  0

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন,মাদক সম্রাটতো সংসদেই আছে। তাদেরকে বিচারের মাধ্যমে আগে ফাঁসিতে ঝুলান। আপনি কি একমত?