শুক্রবার, ২২ জুন ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, ১১:৩৯:৩৭

সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন কোটিপতি খাদ্য কর্মকর্তা

সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন কোটিপতি খাদ্য কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি : দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন, নারী সহকর্মীদের হয়রানি ও গম কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগে রাজশাহীতে আলোচিত খাদ্য কর্মকর্তা আবদুর রহিম চাকরি হারাচ্ছেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় খাদ্য অধিদফতর তাকে চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বদরুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠিটি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে রাজশাহী সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) হিসেবে রয়েছেন আবদুর রহিম। অধীনস্থ তিনজন নারী উপখাদ্য পরিদর্শক তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ করেন। এসব নারী কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখানো, অসৌজন্যমূলক ও অপমানজনক কথা বলা এবং তাদের প্রতি অশোভন আচরণ করেন রহিম। এমনকি তার কথা না শুনলে তাদের বদলি করে দেয়ারও হুমকি দেন।
খাদ্য বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবদুর রহিম তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের বাদ দিয়ে গুদামে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেন। এটি সরকারি নীতিমালা ও খাদ্য অধিদফতরের বিধিবদ্ধ নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই খাদ্য গুদামের মালামাল খালাসের সময় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের সঙ্গে গুরুতর অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এ ধরনের আচরণ করতে রহিম প্ররোচনা দেন বলে অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
আবদুর রহিম সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কাজ দায়িত্বশীল কর্মচারীর মাধ্যমে না করিয়ে তার আত্মীয় গুদামের নিরাপত্তাপ্রহরী আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে করান। অভিযোগ রয়েছে, আসাদুজ্জামানকে অন্য খাদ্যগুদাম থেকে রাজশাহী সদর খাদ্যগুদামে বদলি করে আনা হয় দুর্নীতি ও অনিয়ম কাজ করার জন্যই। রহিমের নামে খাদ্যগুদামের বাসভবন বরাদ্দ থাকলেও তিনি সেখানে বসবাস করেন না, যা খাদ্য বিভাগের চাকরির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
মহাপরিচালকের চিঠিতে ওঠে এসেছে রহিমের আরও অপকর্মের ফিরিস্তি। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে খাদ্য বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট ২৪৪৮ নম্বর স্মারকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে খাদ্য বিভাগ। তদন্তে রহিমের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগের প্রমাণ পায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) ১৯৮৫-এর বিধিমালা অনুযায়ী আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়, যা চলমান রয়েছে। বিভাগীয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেকর্ডপত্রের আলোকে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেন খাদ্য অধিদফতরে। তদন্ত প্রতিবেদনে আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী অদক্ষতা ও অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদন এবং যাবতীয় রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও পরিবীক্ষণে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আবদুর রহিমকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য অধিদফতর। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আবদুর রহিমের রাজশাহী, নওগাঁ, পাবনা ও নাটোরে রয়েছে বিপুল সম্পত্তি। নগরীর শিরোইল বাসটার্মিনাল মার্কেটে স্ত্রীর মালিকনায় রয়েছে কয়েক কোটি টাকার হোটেল আনজুম ইন্টারন্যাশনাল। ওই মার্কেটেই রয়েছে তার ১৫টি দোকান। নগরীর নওদাপাড়া ট্রাকটার্মিনালে রয়েছে ৪০টি দোকান, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। নগরীতে রয়েছে চারটি বাড়ি ও ছয়টি প্লট। এছাড়া নাটোরের লালপুরে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় রয়েছে শতাধিক বিঘা জমি। আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, চাকরি দেয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা, চেক জালিয়াতিসহ অসংখ্য অভিযোগও রয়েছে।
 

এই বিভাগের আরও খবর

  পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় তৃতীয় দফায় বাড়ল ১৪০০ কোটি টাকা

  দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ আগামী ৫ জুলাই

  আমি যেহেতু কোর্ট চিনে গেছি, কোর্টেই যাবো: আসিফ

  যোগব্যায়াম আমাদের তরুণদের ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করবে : কাদের

  বগুড়ার সার্জেন্ট মুমিনের বিচার চাইলেন নওগাঁর মাইক্রোবাস চালকরা

  মা-বাবা থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন নীতি ভুল: ট্রুডো

  আবারো কমেছে সব ধরনের স্বর্ণের দাম

  সড়ক দুর্ঘটনায় ব্র্যাক কর্মী নিহত

  সিলেট জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়েছে ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদল

  মৌলভীবাজারে ডাক্তারের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু ! ময়নাতদন্তের ভয়ে অভিযোগ ছাড়াই লাশ নিলেন বাবা

  ডোবা থেকে পরিবহন শ্রমিকের লাশ উদ্ধার



আজকের প্রশ্ন