বুধবার, ২১ আগস্ট ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৪ আগস্ট, ২০১৯, ০৫:০৩:৩৬

প্রকৃতি কখনো কাউকে ক্ষমা করে না।

প্রকৃতি কখনো কাউকে ক্ষমা করে না।

জহিরুল ইসলাম রাসেল: প্রকৃতি কখনো কাউকে ক্ষমা করে না। আমরা নিজেদের সাময়িক লাভের জন্য প্রকৃতিকে ধ্বংস করছি, এতে সত্যিকার অর্থে স্থায়ীভাবে নিজেদের চরম ক্ষতি করে চলছি। পরিবেশকে ফেলছি চরম বিপর্যয়ের মুখে। অধিক মুনফার আশায় আমরা প্রতিনিয়ত লাগামহীনভাবে ফসলের ক্ষেতে রাসায়নিক প্রয়োগ করছি, সহজে ক্ষতিকারক পোকা মাকড় ও রিপু তাড়াতে নিয়ম বহির্ভূত কীটনাশক প্রয়োগ করছি যার ফলশ্রুতিতে প্রকৃতির বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে উপকারী কীটপতঙ্গ। বিনিময়ে আমদের দেহে আবাস গড়েছে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগ। অন্যদিকে আজ আমরা আজ সেই প্রকৃতির অতি ক্ষুদ্র মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গুতে বিপর্য¯ হয়ে পড়ছি, মারা যাচ্ছি। প্রকৃতি যেভাবেই হোক তার অনিষ্টের প্রতিশোধ নিবেই। পৃথিবীর প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পোকামাকড় আছে যারা মানুষের উপকারী বন্ধুর ভূমিকা পালন করে, এসব পোকামাকড় মানুষ ও মানুষের চাষাবাদের ফসলের ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি করে কিন্তু এগুলোও আমরা প্রতিনিয়ত ধ্বংস করেছি অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে। ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মৎস্য সম্পদ, সাপ, ব্যাঙ, কেঁচো, শকুন, চড়ূই, বোলতা, মৌমাছি, শুঁয়োপোকা ইত্যাদি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এসব প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। জীবজগতের খাদ্যশৃঙ্খলে এরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। প্রকৃতির কোন কিছু নির্বিচারে ধ্বংস করার ফল য়ে কত ভয়াবহ হতে পারে তা বিভিন্ন তথ্য থেকে চীনের চড়ূই পাখি নিধনের ঘটনা থেকেই অনুমান করা যায়-
”চড়ুই পাখি ফসল খেয়ে সর্বনাশ ডেকে আনে ভেবে ১৯৫৮ সালে মাও-সে-তুং এর নির্দেশে অসংখ্য চড়ুই নিধন করা হয়। কেননা একটি চড়ুই বছরে ৪ থেকে ৫ কেজি শস্য খায়। সুতরাং, দশ লক্ষ চড়ুইয়ের খাবার বাঁচিয়ে প্রায় ৬০ হাজার ব্যক্তির খাদ্যের যোগান দেয়া যেতে পারে। এমন ভাবনা থেকেই শুরু হল প্রচারণা। চড়ুই মারার উৎসবে মেতে উঠল গোটা চীন দেশ। ‘স্প্যারো আর্মি’ কাজে লেগে গেল। পুরস্কার ঘোষণা করা হল চড়ুই মারার জন্য। বিভিন্ন পদ্ধতিতে চড়ুই নিধন হতে লাগল। ডিম নষ্ট করা হল। তছনছ করা হল বাসা। জাল দিয়ে ধরা হল অসংখ্য চড়ুই। বন্দুক দিয়ে মারা হল বাকি চড়ুই পাখি। এভাবে 'দ্য গ্রেট স্প্যারো ক্যাম্পেইন' নামে প্রচারণার মাধ্যমে চড়ুইশূন্য হল চীন। একপর্যায়ে ফসলের ক্ষেতে বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ এমনভাবে বেড়ে গেল যে, ক্ষেত থেকে ফসল আর ঘরেই তোলা গেল না। ১৯৬১-৬২ সাল। চীনে দেখা দিল দুর্ভিক্ষ। শুরু হলো ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আর মরতে লাগলো মানুষ। মারা গেল প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন মানুষ। নিরুপায় হয়ে প্রকৃতিতে চড়ুই ফিরিয়ে আনতে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে শুরু হল চড়ুই আমদানি।” 
চড়ুই প্রধানত শস্যদানা, ঘাসের বিচির পাশাপাশি অসংখ্য পোকামাকড় খেয়ে থাকে। বিশেষ করে পোকার শুককীট, মুককীট বা লেদাপোকা যারা শস্য উৎপাদনের অন্তরায়। এরা যেসব প্রজাতির পোকামাকড় খায় তাদের মধ্যে বিটল পোকা, ছাড়পোকা, পিঁপড়া, মাছি উল্লেখযোগ্য। চড়ুই এসব পোকার ক্ষতিকর আক্রমণ থেকে ফসল, সবজির ক্ষেত, বনাঞ্চল বাঁচিয়ে পরিবেশ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
এভাবে প্রকৃতির প্রতিটি প্রণিী কীটপতঙ্গ একটি সুসজ্জিত খাদ্যশৃঙ্খল ও নির্দিষ্ট জীবনচক্রে পরিচালিত, মানবসৃষ্ট ব্যবস্থাদি যখন এই নিয়মের লাগাম টেনে ধরে প্রকৃতির বিপর্যয় ঘটায় তখন প্রকৃতির নিয়মে তার বিরুপ প্রভাবে মানব জীবন সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে...তাই আসুন পরিবেশ রক্ষা করি, প্রাণ প্রকৃতি রক্ষা করি, অযথা কীটনাশক ও রাসায়নিক প্রয়োগ, গাছ কাটা বন্ধ করি, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে ক্ষতিকর ক্যামিকাল ব্যবহার কওে নীরব গণহত্যা বন্ধ করি। গাছ লাগাই, জৈব কৃষিতে ফিরে যাই, চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি। আমার পরিবার, আমার সন্তানের নিরাপদ খাদ্য ও রোগমুক্ত সুস্থ্য পরিবেশ নিশ্চিত করি।



আজকের প্রশ্ন