রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ,২০২১

Bangla Version

বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা থেকে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার জন্য যোগাযোগ করুন (newsroom.somoynews24@gmail.com)

  
SHARE

বুধবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২১, ১১:২৯:১৮

স্কুল শিক্ষিকা ও মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি

 স্কুল শিক্ষিকা ও মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি: সরকারি চাকুরী করছে বীর মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া নাতনী সেজে এটির সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি গত ৪ জানুয়ারি “সুর্যি আক্তার ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতনী নয়” বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ৮ দিন অতিবাহিত হলেও শিক্ষা বিভাগ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় উপজেলা জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন করছে “ভুয়া নাতনী সুর্যি আক্তার’র ” খুটির শক্তি কোথায়? তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে- বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের বক্তব্যের সাথে বাস্তবে কোন মিল নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ হাছনা বেগমের সাথে কথিত মেয়ে মর্জিনা বেগমের বয়সের ব্যবধান ৬ বছর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের মেয়ে মর্জিনা বেগম নয়। সেহেতু “সুর্যি আক্তারও ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাতনী নয়। এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন গত ২৪/১০/২০২০ ইং তারিখে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশন সনদ নিয়েছেন, সেখানে মোছাঃ মর্জিনা বেগমকে বড় কন্যা হিসেবে দেখিয়েছেন। আবার ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা “ভুয়া নাতনির” ঘটনা জানাজানির হওয়ার আগে একটি ওয়ারিশন সদন দিয়েছেন। সেখানে মোছাঃ মর্জিনা বেগম নামে তার কোন মেয়ের নাম নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের আবাসন বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তমিজ উদ্দিনের বাড়িতে সরেজমিন গেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তমিজ উদ্দিন জানান- তার ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে। এছাড়া ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার শ্যালক মোঃ জয় মামুন জানান যে- বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে। উপজেলার একাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্যেও বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিন একটি ওয়ারিশন সনদে ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে উল্লেখ করেছেন। অন্য আর একটি ওয়ারিশন সনদে ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে বলে দাবি করেছেন। ওই বীরমুক্তিযোদ্ধাই আবার ভিডিও বক্তব্যে মর্জিনা বেগম নামে তার কোন মেয়ে নেই এবং “সুর্যি আক্তার নামে তার কোন নাতনী নেই বক্তব্য দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কমিটি। ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার কথিত মেয়ে মোছাঃ মর্জিনা বেগমই হচ্ছে মোছাঃ মর্জিনা বেগম মহছেনা। এছাড়া সুর্যী আক্তারের স্মার্ট কার্ডে মায়ের নাম মর্জিনা বেগম আবার “সুর্যি আক্তার’র বিবাহের কাবিন নামায় মাতার নাম মর্জিনা আক্তার মহছেনা। মোছাঃ মর্জিনা বেগম ও মোছাঃ মহছেনা বেগম আলাদা ব্যক্তি নয়। দু’টি নামেই একজনের বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়েছে। এদিকে মোছাঃ মর্জিনা বেগম বা মোছাঃ মহছেনা বেগম পার্শ্ববতী গ্রামের মৃত মোফাজ্জল মাষ্টারের মেয়ে। তার বিয়ে হয় পার্শ্ববতী গ্রামের জাহেদুলের সাথে। বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের কোন মেয়ের সাথে জাহেদুলের বিয়ে হয়নি। জাহেদুল ও মর্জিনা বা মহছেনা দম্পত্তির ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে। তারা হচ্ছে “সুর্যি আক্তার, সুমি আক্তার, সেতু আক্তার ও হক মাওলা। ফলে “সুর্যি আক্তারসহ ৪ জনেই মৃত মোফাজ্জল মাষ্টারের নাতনী বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও “সুর্যি আক্তারের শিক্ষা সনদ ও এনঅঅইডি কার্ডে মায়ের নাম মোছাঃ মর্জিনা বেগম। মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ওয়ারিশন সনদে মোছাঃ মর্জিনা বেগমের নাম আছে মোছাঃ মর্জিনা আক্তার মহছেনা। মৃত মোফাজ্জল হোসেন পুত্র মোঃ নুরনবী ইসলামের স্ত্রী জানান- মৃত মোফাজ্জল মাষ্টারের বড় মেয়ে মর্জিনা। মর্জিনা বেগমের সাথে বিয়ে হয়েছে পার্শ্ববর্তী জাহেদুল ইসলামের সাথে। মর্জিনার ৩ মেয়ে “সুর্যি আক্তার, শিমু, সেতু। এখানেও দেখা যায় মোছাঃ মর্জিনা বেগম মৃত মোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের মেয়ে এবং “সুর্যি আক্তার মৃত মোফাজ্জল হোসেন মাষ্টারের নাতনী বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধ তমিজ উদ্দিন দু’টি ওয়ারিশন সনদ দু’ রকম করে সূর্যি আক্তারকে নাতনী দেখানোর চেষ্টায় লিপ্ত আছে। ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য বার বার ওয়ারিশন সনদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়েছেন। তিনি “সুর্যি আক্তারকে নাতনী বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে সংশ্লিস্ট ইউনিয়ন পরিষদ একই ব্যক্তিকে দু’বার ওয়ারিশন সনদ দিয়েছে। যা এক ব্যক্তির একটি সনদ হয়ে থাকে। এখানে একই ব্যক্তি দু’ রকম ওয়ারিশন সনদ নিয়েছে। ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে “সুর্যি আক্তারকে ভুয়া নাতনি বানিয়ে চাকুরী নিতে সহযোগিতা করেছেও বলে অনেকে মনে করছে। এছাড়া তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলের ৮ দিন অতিবাহিত হলেও শিক্ষা বিভাগ একণ পর্যন্ত ভুয়া নাতনী সুর্য্যি আক্তারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় উপজেলা জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। শিক্ষা বিভাগ কোন ভাবে এটিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে অনেকে মনে করছে। সম্প্রতি “বীর মুক্তিযোদ্ধার ভূযা নাতনী সেজে চাকুরী করছে সুর্য্যি আক্তার” শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রোকসানা বেগমের নজরে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে গত ২ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ ফরহাদ হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ৪ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ তদন্ত কমিটি বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রোকসানা বেগমকে দাখিল করে। তদন্ত কমিটি প্রধান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা “সুর্যি আক্তার আক্তার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তমিজ উদ্দিনের ব্যাপারে নিরপেক্ষতার সাথে তদন্ত করে যা সত্যতা পেয়েছি তা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত ভাবে ডকুমেন্টসহ প্রতিবেদন দাখিল করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম বলেন, আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। আগামী কালকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি লিখবো।

https://web.facebook.com/Somoy-news

আজকের প্রশ্ন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন,মাদক সম্রাটতো সংসদেই আছে। তাদেরকে বিচারের মাধ্যমে আগে ফাঁসিতে ঝুলান। আপনি কি একমত?