রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ,২০১৯

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ০৬:৩৫:৩৯

আলিফ হত্যার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে মূল হত্যাকারী রিপন

আলিফ হত্যার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও ধরাছোঁয়ার বাহিরে মূল হত্যাকারী রিপন

ডেস্ক রিপোর্ট: বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন মাহমুদুর রহমান আলিফ (১৯)। পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর এলাকার জোবেদা খাতুনের বাড়ির দ্বিতীয় তলায়। তার বাবা মিজানুর রহমান দিনাজপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) হাবিলদার পদে কর্মরত। কেরানীগঞ্জের আলিফদের ভাড়া বাসার নিচতলার ভাড়াটিয়া ছিলেন মো. রিপন ওরফে আশিক (৩৮)। প্রতিবেশী হওয়ায় রিপনের সঙ্গে সখ্য হয় তার। কিছুদিন আগে আলিফকে নতুন একটি মোটরসাইকেল কিনতে বলেন রিপন। যে ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল তার পছন্দ ছিল সেটির দাম চার লাখ টাকার বেশি। রিপন তাকে পরামর্শ দেন- তিন লাখ টাকা জোগাড় করতে পারলে বাকি টাকা ম্যানেজ করবেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে রিপনকে ওই টাকা পরিশোধ করার কথা বলেন। শখের সেই মোটরসাইকেল কিনতে গিয়ে ফাঁদে পড়েন কলেজছাত্র। পরিবারের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা জোগাড় করে ২২ আগস্ট বাসা থেকে মোটরসাইকেল কিনতে বের হন আলিফ। সেই টাকার জন্য নৃশংসভাবে খুন হন রিপন ও তার সহযোগী  রাজীবের হাতে। তারা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। গত শুক্রবার রাতে রাজীবকে গ্রেফতার করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। গতকাল তার দেওয়া জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে আলিফ হত্যার রহস্য।

 আলিফ এর বড় ভাই মাহফুজুর রহমান জানান, প্রতিবেশী রিপন বয়সে তার ভাইয়ের চেয়ে অনেক বড় হলেও দু'জন সবসময় বন্ধুর মতো আড্ডা দিত। মাস তিনেক আগে তাদের বাসার নিচতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে রিপন তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উঠেছিল। তখন সে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিত। পুলিশ যে ধরনের পোশাক পরে, রিপনের বাসায় সেই ধরনের পোশাকও থাকত। রিপনকে 'কাকা' বলে ডাকত আলিফ। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে থেকে বাসায় মনমরা হয়ে কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলত না সে। বিমর্ষ দেখাত তাকে। এরপর পরিবারের সদস্যরা রিপনের সঙ্গে চলাফেরা করতে নিষেধ করেন। ২২ আগস্ট বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ঘাটারচরের চৌরাস্তায় 'এসএস মোটরস' নামে একটি শোরুম থেকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য বের হন। ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে বের হওয়ার সময় ফোনে আলিফ বলতে থাকে, 'কাকা আসছি।' ওই দিন রাত পৌনে ১টার দিকে আলিফদের বাসায় গিয়ে দরজা ধাক্কা দেয় রিপন। দরজা খোলার পর আলিফ এর মা মিনারা বেগমের কাছে জানতে চায়, 'আলিফ কোথায়'। তখন রিপনকে বলা হয়, আলিফ তো তার সঙ্গে থাকার কথা।

মাহফুজুর আরও জানান, ঘটনার রাতে যখন রিপন তাদের বাসায় যায়, তখন তাকে অস্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। রিপনের শরীর ও পোশাকে কাদা মাখা ছিল। তখন রিপন বলতে থাকে, আলিফ খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশছে, যে কোনো সময় কেউ হত্যা করতে পারে তাকে।

এটা শোনার পর দুশ্চিন্তায় পড়েন আলিফ এর পরিবারের সদস্যরা। এর পরই ফোনে কল করতে থাকে তাকে। কিছু সময় রিংটোন বাজার পর বন্ধ পাওয়া যায় ফোন। পরদিন ২৩ আগস্ট কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ওই দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে কেরানীগঞ্জের রামেরকান্দা টু আর্টি বাজার এলাকায় জনৈক রব মোল্লার বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি ডোবায় ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় একজনের লাশ পাওয়া গেছে। পরে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ওই লাশ আলিফের বলে শনাক্ত করে আলিফের মেঝ ভাই মুজিবুর রহমান মিঠু। তার গলায় সাদা নাইলনের রশি প্যাঁচানো ছিল। কপালের বাঁ পাশে হালকা দাগ ও বাঁ হাতের কনুইয়ের নিচে জখম ছিল।

নিহতের পরিবারের এক সদস্য জানান, রিপন ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক আগে থেকে নানা অপরাধে জড়িত। এর আগে দু'বার কারাগারে গেছে রিপনের স্ত্রী।
বাড়ির মালিকের শ্যালক আবদুল হালিম বলেন, 'জন্মনিবন্ধন সনদ রেখে রিপনকে বাসা ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর ভাড়াটিয়া হিসেবে রিপনের তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়।

শুরু থেকে রিপনকে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশের নির্দেশে বাড়ীর সিকিউরিটি গার্ডের তত্বাবধানে তার পরিবারের সদস্যদের বাসায় আটকে রাখা স্বত্তে¡ও  গত ৩১/০৮/২০১৯ ইং তারিখ সকালে মূল আসামী রিপনের স্ত্রী হোসনে আরা ও ২ সন্তানসহ ওখান থেকে পালিয়ে যাওয়ায় এবং আজ হত্যার ১০ দি অতিবাহিত হলেও মূল আসামী এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন আলিফ এর পরিবার।

https://web.facebook.com/Somoy-news

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন,মাদক সম্রাটতো সংসদেই আছে। তাদেরকে বিচারের মাধ্যমে আগে ফাঁসিতে ঝুলান। আপনি কি একমত?