বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ,২০১৮

Bangla Version
  
SHARE

বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, ১১:৩২:৩১

এয়ারটেলের ৯৩ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি

এয়ারটেলের ৯৩ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি

ঢাকা: সেলফোন অপারেটর এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫২ টাকা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি এয়ারটেলকে চিঠি দিয়ে এ অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
এনবিআরের কাছে পাঠানো এয়ারটেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সিম বদল (রিপ্লেসমেন্ট) হয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৩টি। কিন্তু এনবিআর অনুসন্ধান করে জানতে পারে, এ সিমের ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ বা ৪ লাখেরও বেশি সিম নতুনভাবে ইস্যু করা হয়েছে। এ তথ্য গোপনের মাধ্যমে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট মিলে ৩২ কোটি ৪০ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ টাকা ফাঁকি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে এয়ারটেল মোট তিনবার শুনানিতে অংশ নেয়। মূল সিমের ক্রেতা ও বদলি সিম গ্রহণকারীর বিষয়ে শুনানিতে এয়ারটেল যে তথ্য দেয় তার সঙ্গে আগের তথ্যের মিল খুঁজে পায়নি এনবিআর, যা স্বীকার করে নিয়ে এনবিআরের কাছে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন এয়ারটেল কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জানতে এয়ারটেলে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ছাড়া এনবিআর নিরীক্ষা করে দেখেছে, ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এয়ারটেলের (অধুনালুপ্ত ওয়ারিদ) ভ্যাট ফাঁকি এবং সঠিক সময়ে রাজস্ব পরিশোধ না করায় সুদসহ এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৬৫৯ টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫৬ হাজার ৪০৭ টাকার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এ অর্থ বাদে বাকি ৬০ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার ২৫২ টাকা এয়ারটেলকে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলেছে এনবিআর।
৬০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি ধরা পড়ে এনবিআরের দুটি নিরীক্ষায়। প্রথম দফায় এনবিআর নিরীক্ষা করে দেখতে পায়, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৫৩৭টি সিম বদল করেছে এয়ারটেল। এর প্রায় ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ বা ২ লাখ ৫৪ হাজার ১৩৯টি সিম নতুন গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিটি নতুন সিমের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ৮০০ টাকা হিসাবে ২০ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৪৬০ টাকা কম রাজস্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এনবিআরের অন্য আরেকটি নিরীক্ষায় ২৪ কোটি
৮০ লাখ টাকা ফাঁকি ধরা পড়ে। ২০০৮ ও ২০০৯ সালের পাঁচ মাসে ৩ লাখ ১০ হাজার সিমে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন এ পাওনা পরিশোধ না করায় সুদসহ তা দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর ১ কোটি ৯ লাখ ২৩ হাজার ৮২৮ টাকা ভ্যাট আসে। কিন্তু এয়ারটেল তা পরিশোধ করেনি। সঠিক সময়ে এ রাজস্ব পরিশোধ না করায় আরও ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫৬ হাজার ৪০৭ টাকা এয়ারটেলের কাছে এনবিআরের পাওনা হয়েছে। বর্তমানে এটি আদালতে বিচারাধীন।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে জানা যায়, কোনো কারণে ফোন হারিয়ে গেলে বা সিম নষ্ট হয়ে গেলে সংযোগ অপরিবর্তিত রেখে সিম বদলে নিতে পারেন গ্রাহক। এ জন্য কোনো রাজস্ব দিতে হয় না। অর্থাৎ প্রথম যিনি সিম কিনবেন, তিনিই শুধু সুযোগটি পাবেন। ভিন্ন গ্রাহকের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়। কিন্তু এয়ারটেল হারানো সিম প্রথম গ্রাহকের নামে ইস্যু না করে পরিবর্তিত গ্রাহককে একই নম্বরে ইস্যু করেছে। এতে এয়ারটেলের নতুন গ্রাহক তৈরি হলেও এর বিপরীতে কোনো রাজস্ব দিতে হয়নি। এসব ঘটনার একাধিক তথ্যপ্রমাণ এনবিআরের হাতে রয়েছে।
এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, আগে বহুজাতিক সেলফোন কোম্পানিগুলোর দিকে নজর দেয়া হয়নি। এ সুযোগকে তারা যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করেছে। এখন কোম্পানিগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে।
এনবিআর মনে করছে, এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড সিম বদলের আড়ালে নতুন গ্রাহককে নতুনভাবে ইস্যু করা সিমকার্ড দিচ্ছে। এর বিপরীতে বিদ্যমান ট্যারিফ মূল্য অনুযায়ী সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। কারণ বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী অব্যবহূত সিম সচল করার লক্ষ্যে কোনো গ্রাহকের অব্যবহূত সিম একটি সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে অন্য কোনো নতুন গ্রাহকের কাছে হস্তান্তর নতুন সংযোগ হিসেবে বিবেচ্য। তাই সাধারণ আদেশ নং-৬/মূসক/২০০৬-এর মাধ্যমে সেবার কোড এস-০১২.২০ অর্থাৎ সিম কার্ড সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ট্যারিফ মূল্যের ওপর ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়যোগ্য বলে রাজস্ব বোর্ড মনে করে।



 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

আজকের প্রশ্ন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নাগালের বাইরে চলে গেছে। আপনি কি একমত?